ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর তীব্র নিন্দা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও কর্তব্যরত কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন ও একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাঈম উদ্দিন পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় পুলিশ সদস্যরা নাঈমকে ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে মারধর করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। একই সময়ে অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন এমন কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এদের মধ্যে একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানটির নেতৃত্বে থাকা ডিসি মাসুদের সামনেই এসব ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা পুলিশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

সোমবার দিবাগত রাতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণে একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা নাঈম আহমেদের ওপরও বিনা উসকানিতে পুলিশ আক্রমণ করেছে। ডাকসু এই দুটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ডাকসুর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে এভাবে আক্রমণ করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। অভিযান চলাকালে কারও কাছে বেআইনি কিছু পাওয়া গেলে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করাই বিধিসম্মত পন্থা। কিন্তু বিনা উসকানিতে বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকার পরিপন্থী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সংযম, পেশাদারিত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর আক্রমণ কোনো সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাম্য নয়।

ডাকসু অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ যেসব এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী বা অন্যান্য অভিযান পরিচালিত হয়, সেখানে যেন কোনো নিরীহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও হেনস্তার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেকর্ড আমদানিতেও স্বস্তি নেই ফলের বাজারে, নেপথ্যে উচ্চ শুল্ক ও সিন্ডিকেট

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর তীব্র নিন্দা

আপডেট সময় : ১২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও কর্তব্যরত কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন ও একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাঈম উদ্দিন পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় পুলিশ সদস্যরা নাঈমকে ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে মারধর করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। একই সময়ে অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন এমন কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এদের মধ্যে একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানটির নেতৃত্বে থাকা ডিসি মাসুদের সামনেই এসব ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা পুলিশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

সোমবার দিবাগত রাতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণে একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা নাঈম আহমেদের ওপরও বিনা উসকানিতে পুলিশ আক্রমণ করেছে। ডাকসু এই দুটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ডাকসুর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে এভাবে আক্রমণ করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। অভিযান চলাকালে কারও কাছে বেআইনি কিছু পাওয়া গেলে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করাই বিধিসম্মত পন্থা। কিন্তু বিনা উসকানিতে বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকার পরিপন্থী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সংযম, পেশাদারিত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর আক্রমণ কোনো সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাম্য নয়।

ডাকসু অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ যেসব এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী বা অন্যান্য অভিযান পরিচালিত হয়, সেখানে যেন কোনো নিরীহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও হেনস্তার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।