বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের লাগামহীন বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিতর্কিত মন্তব্যকারী এসব মন্ত্রীদের ‘লাগাম টেনে ধরার’ জন্য তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে সোহেল রানা তার এই কড়া অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, গত কয়েক দিনে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ মানুষ আপনাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং আপনার ওপর অনেক আশা ভরসা রেখেছে। কিন্তু কিছু মন্ত্রীর অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত কথাবার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই জনস্বার্থে এসব মন্ত্রীদের ‘মুখে টেপ লাগিয়ে দেওয়া’ এখন সময়ের দাবি।
সোহেল রানা তার পোস্টে মন্ত্রীদের গণমাধ্যমে উপস্থিতির বিষয়েও পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছাড়া মন্ত্রীদের বারবার ক্যামেরা বা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি দপ্তরের সুনির্দিষ্ট মুখপাত্রের মাধ্যমেই সংবাদ পরিবেশন করা বাঞ্ছনীয়। যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজনে কোনো মন্ত্রীকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা যেন অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমতি সাপেক্ষে হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বলেন, যারা মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন যে তারা এখন আর কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন। তাদের প্রতিটি ‘অসংলগ্ন’ বক্তব্যের দায়ভার শেষ পর্যন্ত সরকার ও দলের ওপরই বর্তায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো মন্ত্রী নিজের দপ্তরের কাজের বাইরে গিয়েও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে মন্তব্য বা ‘জিহাদ’ ঘোষণা করছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকারের অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। চিঠির শেষে তিনি সময় থাকতে এসব মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 























