কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির ব্যানারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘অনৈতিক’ ও ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, বর্তমানে অকার্যকর একটি সমিতির নামে কয়েকজন শিক্ষক এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যাদের অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন এবং সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ‘গণধিকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত।
শনিবার এক বিবৃতিতে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে অকার্যকর এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত শিক্ষক সমিতির নামে কয়েকজন শিক্ষক ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা দাবি করেন, যেহেতু শিক্ষক সমিতির কোনো কার্যকর কমিটি বর্তমানে নেই, তাই ওই ব্যানার ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন সম্পূর্ণ অনৈতিক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ। যারা নিজেদের শিক্ষক সমিতির দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি নেই।
সাদা দলের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীটি সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘গণধিকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের অনেককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও সাদা দল দাবি করে।
এ অবস্থায় তদন্ত চলাকালীন এবং কার্যকর কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ‘শিক্ষক সমিতি’ নাম বা ব্যানার ব্যবহার করে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন সাদা দলের নেতারা।
তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবেদনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানগুলোতে কোনো বিতর্কিত শিক্ষক বা সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিবৃতির শেষাংশে সাদা দলের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরদের কোনো অপতৎপরতা তারা বরদাশত করবেন না।
রিপোর্টারের নাম 

























