ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাষা আন্দোলনের চেতনা উজ্জীবিত: ঢাবিতে মঞ্চস্থ হলো ‘ভাষার ক্ষুধা’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের আয়োজনে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাটকটি পরিবেশিত হয়। মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকটি ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নাটকের শুরুতেই কালো পোশাকে সজ্জিত অভিনেতারা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক ব্যতিক্রমী পদযাত্রা করেন। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ কবিতার ছন্দময় আবৃত্তির তালে তালে তাদের দলীয় পরিবেশনা ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদের চেতনা ও সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলে। নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাঙালির ভাষা রক্ষার সংগ্রাম এবং শহীদদের অমূল্য আত্মত্যাগের চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়।

নাটকের সহ-নির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বর্তমান প্রজন্মের বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখনো বাংলা ভাষার প্রকৃত সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারিনি। শুধুমাত্র বাংলা ভাষার জন্য আমাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে—এই বোধ আমাদের মধ্যে জাগ্রত হলে, আমরা নিজের ভাষাকে আর অবহেলা বা ছোট করে দেখব না।”

পরিচালক মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ততক্ষণ ভাষাকে ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে। কিন্তু যখনই ভাষা প্রশ্ন তোলে, ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায়, তখনই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। আমাদের নাটকের সূচনা এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন বাংলায় প্রতিবাদের ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলা ভাষা হওয়ার কথা ছিল প্রতিবাদের ভাষা, প্রতিবাদের ধারক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এত বছর পরেও আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ভাষায় প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখনো দ্বিধা বোধ করি।”

নাটকটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটকটি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রতিবাদের শক্তিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে স্মরণ করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

ভাষা আন্দোলনের চেতনা উজ্জীবিত: ঢাবিতে মঞ্চস্থ হলো ‘ভাষার ক্ষুধা’

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের আয়োজনে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাটকটি পরিবেশিত হয়। মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকটি ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নাটকের শুরুতেই কালো পোশাকে সজ্জিত অভিনেতারা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক ব্যতিক্রমী পদযাত্রা করেন। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ কবিতার ছন্দময় আবৃত্তির তালে তালে তাদের দলীয় পরিবেশনা ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদের চেতনা ও সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলে। নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাঙালির ভাষা রক্ষার সংগ্রাম এবং শহীদদের অমূল্য আত্মত্যাগের চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়।

নাটকের সহ-নির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বর্তমান প্রজন্মের বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখনো বাংলা ভাষার প্রকৃত সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারিনি। শুধুমাত্র বাংলা ভাষার জন্য আমাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে—এই বোধ আমাদের মধ্যে জাগ্রত হলে, আমরা নিজের ভাষাকে আর অবহেলা বা ছোট করে দেখব না।”

পরিচালক মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ততক্ষণ ভাষাকে ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে। কিন্তু যখনই ভাষা প্রশ্ন তোলে, ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায়, তখনই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। আমাদের নাটকের সূচনা এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন বাংলায় প্রতিবাদের ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলা ভাষা হওয়ার কথা ছিল প্রতিবাদের ভাষা, প্রতিবাদের ধারক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এত বছর পরেও আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ভাষায় প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখনো দ্বিধা বোধ করি।”

নাটকটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটকটি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রতিবাদের শক্তিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে স্মরণ করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।