ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশের আবহে সেজেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শ্রদ্ধা নিবেদন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এখন উৎসবের আবহে মুখরিত। ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আলপনার রঙিন ছোঁয়ায় সেজে উঠেছে বেদী, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদী ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা নিপুণ হাতে বেদীর চারপাশে ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকছেন। লাল ও সাদা রঙের সুনিপুণ বুননে পুরো প্রাঙ্গণ যেন রক্তঝরা একুশের বার্তাবাহী হয়ে উঠেছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শন করে প্রস্তুতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পরিদর্শনে অংশ নেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ‘শঙ্কা নেই’ বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। এ উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

একই বিষয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াডও প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া, ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিবিড় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। র‌্যাব মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এসব কর্মসূচি ঘিরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সব মিলিয়ে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এখন রক্তিম আবহে সেজে উঠেছে। প্রস্তুতি, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে অমর একুশে পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত রাজধানী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

একুশের আবহে সেজেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এখন উৎসবের আবহে মুখরিত। ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আলপনার রঙিন ছোঁয়ায় সেজে উঠেছে বেদী, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদী ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা নিপুণ হাতে বেদীর চারপাশে ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকছেন। লাল ও সাদা রঙের সুনিপুণ বুননে পুরো প্রাঙ্গণ যেন রক্তঝরা একুশের বার্তাবাহী হয়ে উঠেছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শন করে প্রস্তুতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পরিদর্শনে অংশ নেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ‘শঙ্কা নেই’ বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। এ উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

একই বিষয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াডও প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া, ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিবিড় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। র‌্যাব মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এসব কর্মসূচি ঘিরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সব মিলিয়ে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এখন রক্তিম আবহে সেজে উঠেছে। প্রস্তুতি, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে অমর একুশে পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত রাজধানী।