পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই নওগাঁর সাপাহারে ইফতার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ছোলা, ডাল, বেগুন, লেবু ও মাংসসহ প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা আজ ৯০ থেকে ১০০ টাকায় ঠেকেছে। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শসা ও লেবুর দামও আকাশচুম্বী; প্রতি কেজি শসা ৮০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পিছিয়ে নেই অন্যান্য পণ্যও। প্রকারভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়লেও অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা গেছে। বেসন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। আমিষের বাজারেও একই চিত্র; ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও দামের এই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলার দিঘীর হাট, কলমুডাঙ্গা, মধুইল, আশড়ন্দ ও তিলনা বাজারসহ প্রধান বাজারগুলোতে ক্রেতাদের মাঝে নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে আসা মো. এরশাদ নামের এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “রমজান আসার আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে শুরু করেছিলেন। আজ প্রথম রোজা রেখে বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে, বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে।” আরেক ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, “আয় বাড়েনি, কিন্তু খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়লে ইফতারের প্লেট থেকে অনেক কিছুই বাদ দিতে হবে।”
বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা রিয়াজ জানান, রমজান উপলক্ষে বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















