ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

গোপন বৈঠক ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য: যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল সিআইএ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানের নেপথ্যে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অত্যন্ত নিবিড় গোয়েন্দা সমন্বয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সরবরাহ করা ‘অতি সংবেদনশীল’ তথ্যের ভিত্তিতেই তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় সিআইএ একটি বিশেষ বার্তা পায়। সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরেই খামেনির গতিবিধি ও অবস্থানের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত হয় যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানানো হয়, ওই বৈঠকে খামেনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতির সুযোগ নিতেই তারা শনিবার সকালকে বেছে নেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং এই অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত সাফল্য অর্জন করা।

সিআইএ-র দেওয়া তথ্য এতটাই নির্ভুল ছিল যে, ইসরাইলি বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যস্থল সুনির্দিষ্ট করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ওই বৈঠকে খামেনির পাশাপাশি ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

অভিযানের দিন ইসরাইলি সময় ভোর ৬টায় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। অত্যাধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত এই বিমানগুলো প্রায় দুই ঘণ্টা পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নির্ধারিত কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। কমপ্লেক্সের যে ভবনটিতে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বৈঠক চলছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সেখানেই আছড়ে পড়ে। সে সময় খামেনি পাশের একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলার পরপরই ইসরাইল দাবি করে যে, তাদের অভিযানে খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। যদিও শুরুতে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে তাদের নেতা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। সিআইএ-র নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং ইসরাইলি বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণই যে এই বড় ধরনের পালাবদলের অনুঘটক ছিল, তা এখন স্পষ্ট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা ও খামেনির শাহাদাত: ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

গোপন বৈঠক ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য: যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল সিআইএ

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানের নেপথ্যে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অত্যন্ত নিবিড় গোয়েন্দা সমন্বয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সরবরাহ করা ‘অতি সংবেদনশীল’ তথ্যের ভিত্তিতেই তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় সিআইএ একটি বিশেষ বার্তা পায়। সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরেই খামেনির গতিবিধি ও অবস্থানের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত হয় যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানানো হয়, ওই বৈঠকে খামেনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতির সুযোগ নিতেই তারা শনিবার সকালকে বেছে নেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং এই অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত সাফল্য অর্জন করা।

সিআইএ-র দেওয়া তথ্য এতটাই নির্ভুল ছিল যে, ইসরাইলি বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যস্থল সুনির্দিষ্ট করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ওই বৈঠকে খামেনির পাশাপাশি ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

অভিযানের দিন ইসরাইলি সময় ভোর ৬টায় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। অত্যাধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত এই বিমানগুলো প্রায় দুই ঘণ্টা পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নির্ধারিত কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। কমপ্লেক্সের যে ভবনটিতে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বৈঠক চলছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সেখানেই আছড়ে পড়ে। সে সময় খামেনি পাশের একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলার পরপরই ইসরাইল দাবি করে যে, তাদের অভিযানে খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। যদিও শুরুতে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে তাদের নেতা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। সিআইএ-র নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং ইসরাইলি বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণই যে এই বড় ধরনের পালাবদলের অনুঘটক ছিল, তা এখন স্পষ্ট।