মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজের সবুজ সমারোহ, আর শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হলেও, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না চাষিদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীপুরে ৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৯১ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৬ হেক্টর বেশি। উপজেলার আমলসার ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তোলা শুরু হবে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর পেঁয়াজ বীজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। উপজেলার ছোট উদাস গ্রামের অভিজ্ঞ চাষি আলহাজ্ব খান মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদে এবার ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে বর্তমান বাজার দর অব্যাহত থাকলে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তার মতে, প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে, বরালিদহা গ্রামের চাষি ইমদাদুল কবির জানান, কিছু এলাকায় পেঁয়াজের পচন রোগ ও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত দামি কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচকে আরও উসকে দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবির বলেন, “পেঁয়াজ চাষিদের ফলন বৃদ্ধিতে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করছি। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনাও প্রদান করা হচ্ছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।”
চাষিরা মনে করছেন, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এই অঞ্চলে মসলাজাতীয় এই ফসলের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।
রিপোর্টারের নাম 

























