বিতর্ক ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তবে পুরস্কারের সম্মাননা গ্রহণ করলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অর্থ নিতে রাজি নন তিনি। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান জানান, ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়, যা তিনি ব্যক্তিগত এবং মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তবে পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ২ মার্চ তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় কবিতা পরিষদের পরামর্শ কাজ করেছে বলে জানান এই কবি। তিনি বলেন, “পরিষদের সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ছিল যে, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া। আমি কোনো পদক বা অর্থের কাঙাল নই; জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেবল কাজের স্বীকৃতিটুকু চেয়েছিলাম।”
রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও বাক-স্বাধীনতার প্রসঙ্গে মোহন রায়হান বর্তমান সরকার প্রধানের প্রতি তার আস্থার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা কলমের ও কথা বলার স্বাধীনতা চেয়েছি। সরকার প্রধান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ভালো কাজে উৎসাহ এবং ভুল করলে সমালোচনা করা যাবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি পুরস্কারটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়ে মোহন রায়হান বলেন, “পুরস্কারের টাকা আমি নেব না। এই অর্থ যেন কোনো অসচ্ছল কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে ব্যয় করা হয়, সেই অনুরোধ জানাচ্ছি।”
পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা যেন যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই গ্রহণ করতে পারি। প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করে হলেও যেন এই আনুষ্ঠানিকতার সম্মান বজায় রাখা হয়।”
রিপোর্টারের নাম 

























