ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সংবিধানে এই পদটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা প্রেসিডেন্ট বা পার্লামেন্টের চেয়েও বেশি ক্ষমতার অধিকারী। মূলত ৮৮ সদস্যের আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এই পদের জন্য নেতা নির্বাচন করে থাকে। খামেনির দীর্ঘ শাসনামলে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ। এই দুই শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর একনিষ্ঠ আনুগত্যই তার অবস্থানকে বছরের পর বছর ধরে সুসংহত রেখেছিল। তার মৃত্যুতে এই নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি তার শাসনামলে সবসময় দাবি করে এসেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও জাতিসংঘ বা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি, তবে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই একে সন্দেহের চোখে দেখেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খামেনির চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা বা তাদের অকার্যকর করার পেছনে মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে। খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন এবং ইরানের ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
রিপোর্টারের নাম 





















