বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো—পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এই পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন প্রবল।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন কবে হতে পারে?
বিদ্যমান সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে:
- বর্তমান অবস্থা: বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
- পদত্যাগের ইঙ্গিত: গত ডিসেম্বর মাসে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে (রয়টার্স) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক। তিনি যদি সংসদীয় সেশন চলাকালীন স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে পদটি শূন্য হবে।
- নির্বাচনের সময়: রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। যেহেতু নতুন সংসদ মাত্র যাত্রা শুরু করেছে, তাই প্রথম অধিবেশনের পরপরই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন কীভাবে?
বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে প্রচলিত সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের (MP) ভোটে অনুষ্ঠিত হয়:
- সংসদীয় ভোট: নবনির্বাচিত ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যরা (এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা) গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।
- মনোনয়ন: যেকোনো দুইজন সংসদ সদস্য একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রস্তাব ও সমর্থন করতে পারেন।
- একক প্রার্থী: যদি কেবল একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং তা বৈধ হয়, তবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হন।
- যোগ্যতা: প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
আলোচনায় কারা আছেন?
নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বেশ কিছু হেভিওয়েট নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে:
- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সিনিয়র সদস্যের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের প্রধান দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে।
- অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের নামও অনেক মহলে আলোচিত। তবে তিনি নিজে এই আলংকারিক পদে থাকতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
- ড. আব্দুল মঈন খান: বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা ড. মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে অনেক সূত্র বলছে, তাকে স্পিকার হিসেবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- অন্যান্য নাম: নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কোনো সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বকেও এই পদে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
উল্লেখ্য যে, ‘জুলাই সনদ’ বা গণভোটের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা পদটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে।
আমি কি আপনাকে নতুন সংসদের স্পিকার নির্বাচন অথবা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারি?
রিপোর্টারের নাম 


















