দীর্ঘ ১৭ মাস আগে এক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। একই দিনে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকারের শপথগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি ‘নির্ণায়ক পরিবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ‘নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান’—এই শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে তারা উল্লেখ করে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন সরকার গঠন এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের প্রতিবেদনে একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেছে। তারা উল্লেখ করেছে, গত ৩৫ বছরের মধ্যে তারেক রহমানই বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণকে তারা ‘একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বিএনপির এই বিজয়কে ‘সহজ জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের শিরোনামে লিখেছে—‘নিরঙ্কুশ জয়ের পর শপথ নিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী’। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তারেক রহমানের শপথগ্রহণের খবরটি প্রচার করেছে।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ডন তারেক রহমানকে ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছে, দীর্ঘদিন মা-বাবার ছায়ায় থাকার পর এবার সরাসরি দেশের শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনের সম্মুখভাগে চলে এসেছেন। প্রতিবেদনে তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশের এই পটপরিবর্তন ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু এবং সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি তারেক রহমানের শপথের খবরটি প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করেছে। এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে বিএনপির এই জয়কে ‘ভূমিধস বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা হলো।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের এই শপথগ্রহণকে বিশ্ব গণমাধ্যম বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এবং দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছে।
রিপোর্টারের নাম 

























