ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী রেষারেষি শেষে নীলফামারী-৪ এ উন্নয়নের অভিন্ন মঞ্চ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নীলফামারী-৪ আসনে পরাজিত প্রার্থী ও বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, একে অপরের প্রতি অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর তা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন জয়-পরাজয় ভুলে এলাকার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন সব পক্ষ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম। ভোটের লড়াইয়ে একজন জয়ী হলেও, পরাজিত দুই প্রার্থীই এখন এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

বিজয়ী সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম নিজে পরাজিত দুই প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুরের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা এক। আমরা একটি সুন্দর উদাহরণ তৈরি করতে চাই।”

বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার এই উদ্যোগকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। আমাদের নেতারা দেশের উন্নয়নে নতুনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যও আমার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে মতামতের ভিত্তিতে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নে কোনো মতভেদ থাকবে না।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলামও এই ঐক্যের সুর ধরেছেন। তিনি জানান, বিজয়ী প্রার্থী তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাঁরা উভয়েই এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নির্বাচনী উত্তাপ শেষে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নীলফামারী-৪ আসনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

নির্বাচনী রেষারেষি শেষে নীলফামারী-৪ এ উন্নয়নের অভিন্ন মঞ্চ

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নীলফামারী-৪ আসনে পরাজিত প্রার্থী ও বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, একে অপরের প্রতি অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর তা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন জয়-পরাজয় ভুলে এলাকার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন সব পক্ষ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম। ভোটের লড়াইয়ে একজন জয়ী হলেও, পরাজিত দুই প্রার্থীই এখন এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

বিজয়ী সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম নিজে পরাজিত দুই প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুরের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা এক। আমরা একটি সুন্দর উদাহরণ তৈরি করতে চাই।”

বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার এই উদ্যোগকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। আমাদের নেতারা দেশের উন্নয়নে নতুনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যও আমার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে মতামতের ভিত্তিতে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নে কোনো মতভেদ থাকবে না।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলামও এই ঐক্যের সুর ধরেছেন। তিনি জানান, বিজয়ী প্রার্থী তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাঁরা উভয়েই এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নির্বাচনী উত্তাপ শেষে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নীলফামারী-৪ আসনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।