ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের ভূ-কৌশলগত মহাপরিকল্পনা: চিকেন্স নেক ও আসামে মেগা সুড়ঙ্গ প্রকল্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরে মাটির নিচে রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রায় চূড়ান্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দিল্লি। একইসঙ্গে, আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়েও সুদীর্ঘ এক সুড়ঙ্গপথ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। এই দুটি প্রকল্পই ভারতের ভূ-কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি শহর হয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরের রাঙাপাণি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই সুড়ঙ্গ পথ। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে রেললাইন স্থাপন করা হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও উত্তর পূর্ব রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রকল্পটি প্রস্তুত হলেও এর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো আসেনি, তবে ভারতের রেলমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটের পর সংবাদমাধ্যমকে এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রথম জানিয়েছিলেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এর চূড়ান্ত অনুমোদন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

ভূ-কৌশলগতভাবে ভারতের কাছে ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটির একপাশে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে নেপাল অবস্থিত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ পথ এটিই। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা চলাচলের ক্ষেত্রেও এই করিডোরের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও এই ভূগর্ভস্থ রেললাইন প্রাথমিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হবে, এর সামরিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং সুদূরপ্রসারী। এটি ভারতের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। অন্যদিকে, আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে সুদীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা কৌশলকে আরও মজবুত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমির মালিকের ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব, আবাসন খাতে নতুন অনিশ্চয়তা

ভারতের ভূ-কৌশলগত মহাপরিকল্পনা: চিকেন্স নেক ও আসামে মেগা সুড়ঙ্গ প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৪:০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরে মাটির নিচে রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রায় চূড়ান্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দিল্লি। একইসঙ্গে, আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়েও সুদীর্ঘ এক সুড়ঙ্গপথ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। এই দুটি প্রকল্পই ভারতের ভূ-কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি শহর হয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরের রাঙাপাণি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই সুড়ঙ্গ পথ। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে রেললাইন স্থাপন করা হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও উত্তর পূর্ব রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রকল্পটি প্রস্তুত হলেও এর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো আসেনি, তবে ভারতের রেলমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটের পর সংবাদমাধ্যমকে এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রথম জানিয়েছিলেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এর চূড়ান্ত অনুমোদন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

ভূ-কৌশলগতভাবে ভারতের কাছে ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটির একপাশে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে নেপাল অবস্থিত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ পথ এটিই। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা চলাচলের ক্ষেত্রেও এই করিডোরের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও এই ভূগর্ভস্থ রেললাইন প্রাথমিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হবে, এর সামরিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং সুদূরপ্রসারী। এটি ভারতের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। অন্যদিকে, আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে সুদীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা কৌশলকে আরও মজবুত করবে।