ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কষ্টে আছেন, তবু হাসতে চান অভিনেতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ভূমিকা না রেখে কাজের খবর দিয়েই আলাপের শুরু। কী করছেন? উত্তরকর্তাও একইরূপ। কাট কাট জবাব, ‘‘রায়হান রাফী পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় অভিনয় করছি।’’

কথা হচ্ছিল উঠতি কিংবা স্ট্রাগলার অভিনেতা রিজভী রিজুর সঙ্গে। সিনেমা, ওটিটি, ইউটিউব কনটেন্টে সময়ের চরিত্রাভিনেতাদের একজন তিনি। বিনোদন মাধ্যমে কাজ করছেন অনেকদিন থেকেই। তিনি বিশেষভাবে নজরে আসেন ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে। সিনেমার ‘পারকেস’ চরিত্রে অভিনয় করেন রিজভী। 

এই আলাপে সে প্রসঙ্গে মজার তথ্য দিলেন তিনি। বললেন, ‘‘আমার অভিনয় করার কথা ছিল ‘উরকেস’ চরিত্রে। ওই চরিত্রের জন্য আমার অডিশন হয় এবং দুই মাস রিহার্সেলও করি। কিন্তু পরে ‘পারকেস’ চরিত্রে অভিনয় করি। নির্মাতা (মেজবাউর রহমান সুমন) যখন জানলেন যে আমার চরিত্র পরিবর্তন হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অভিনয়ই করব না। কিন্তু পরে নানা কারণে কাজটা করি এবং মনে হয় ভালোই হয়েছে।’’

রিজভীর ফিল্মোগ্রাফি বেশ ঈর্ষণীয়। তার ঝুলিতে আছে ধ্রুব হাসান পরিচালিত ‘ফাতিমা’, শঙ্খ দাশগুপ্তের ‘প্রিয় মালতী’, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান পরিচালিত চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ফেউ’, নুহাশ হুমায়ূন পরিচালিত সিরিজ ‘২ষ’। ‘ফেউ’ সিরিজে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে রিজভী রিজু‘ফেউ’ সিরিজে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে রিজভী রিজু আর্ট ঘরানার কাজে কি পারিশ্রমিক বেশি! জানতে চাইলে রিজভী জানান, ‘না।’ 

পাল্টা আগ্রহ, তাহলে এতো আর্ট ঘরানায় কাজ করার কারণ কী? রিজভী বলেন, ‘আমি সব কাজই করতে চাই। বাণিজ্যিক ধারার কাজ আসছে কিন্তু করতে পারছি না।’ ব্যাখ্যাও দিলেন অভিনেতা। বললেন, ‘সুপারস্টারের একটা সিনেমায় আমার কাজ করার কথা ছিল। ডেট দিলাম, তারা পাসপোর্টও নিল। কিন্তু সেই ডেট আসতে আসতে আমার অন্য কাজের ডেট শুরু হয়ে গেল। সিনেমাটা করতে পারলাম না। আরেকটা বাণিজ্যিক সিনেমার প্রস্তাব এসেছিল, অ্যাকশন ঘরানার, পারিশ্রমিক মিলল না বলে রাজি হইনি। আরেকটা সিনেমার ব্যাপারে প্রাথমিক কথা হয়েছে। চূড়ান্ত না হলে বলতে পারছি না।’

রিজভী রিজু গানও করেন। না, গান শেখেননি কিন্তু করেন। লোক গান, লালনের গানই বেশি করেন। আড্ডা–পরিচিত মহলে গানের শুরু, পরে স্টেজেও গান করেছেন। তবে এখন এসব কমে গেছে। একটা তথ্য দিলে তার শিল্পী পরিচয়টা ভালো করে বোঝা যাবে, অনেক শ্রোতাই তাকে চিনে যেতে পারেন। ২০১৩ সালে আদনান আল রাজীব পরিচালিত ‘অ্যাট এইটটিন’ টেলিফিল্মে ‘ও বন্ধু লাল গোলাপি’ ভার্সনটি রিজভীর গাওয়া! এছাড়া ‘লুলু পাগল’ নামে একটি গান রয়েছে, যেখানে রিজভী মিউজিক ভিডিওর প্রধান অভিনয়শিল্পী ও কণ্ঠশিল্পীও। ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় মেহজাবীনের সঙ্গে রিজভী রিজু‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় মেহজাবীনের সঙ্গে রিজভী রিজু গাতক জীবন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এই দুটি গানের আইডিয়া মূলত সংগীত পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধির। সে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, তাই আমাকে এই কাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এগুলো আসলে আমাদের তরুণ বয়সের কাজ। অনেক কিছু না ভেবেই কাজগুলো করে ফেলেছি।’

ঢাকায় জন্ম রিজভীর, শৈশব কেটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে। লেখাপড়ার কিছু অংশ শেষ করে আবার ঢাকায়। শিক্ষা অর্জন পাশাপাশি কাজের সন্ধান করতে করতে কেটে যায় অনেকটা সময়। কাজ করেছেন সাউন্ড স্টুডিও, প্রোডাকশন হাউসে। এখনও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রিজভী রিজু। বললেন, ‘অভিনয়ে আরও নিয়মিত হতে পারলে চাকরি আর করব না।’

কিন্তু প্রধান চরিত্রের শিল্পী না হতে পারলে শুধু অভিনয় করে কি টিকে থাকা যাবে? সময় নিলেন না রিজভী। চটজলদি আত্মবিশ্বাসী জবাব, ‘আমি পারব। তাছাড়া এখন চরিত্রাভিনেতা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে। তাই আমার মনে হয় টিকে থাকা সম্ভব, আর আমি সেই সম্ভাবনার দিকেই আগাতে চাই।’চরিত্রের বাইরে রিজভী রিজুচরিত্রের বাইরে রিজভী রিজু রাজধানীতে যারা মেট্রো রেলে যাতায়াত করেন, তাদের অনেকেই রিজভী রিজু অভিনীত বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন। ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন তিনি। অর্থাৎ অনেক রকম কাজ করেই এগিয়ে যেতে হচ্ছে রিজভীকে। তার ভাষায়, ‘আপাতত এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এতে কষ্ট বা শ্রম আছে, তবু ঠোঁটের কোনে হাসিটা ধরে রাখতে চাই।’ 

জানান দিলেন, মেট্রোর মতো দ্রুতগামী নয় বরং মেট্রো সেবার মতো মুগ্ধতা ছড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান রিজভী রিজু।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

কষ্টে আছেন, তবু হাসতে চান অভিনেতা

আপডেট সময় : ০৫:২০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমিকা না রেখে কাজের খবর দিয়েই আলাপের শুরু। কী করছেন? উত্তরকর্তাও একইরূপ। কাট কাট জবাব, ‘‘রায়হান রাফী পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় অভিনয় করছি।’’

কথা হচ্ছিল উঠতি কিংবা স্ট্রাগলার অভিনেতা রিজভী রিজুর সঙ্গে। সিনেমা, ওটিটি, ইউটিউব কনটেন্টে সময়ের চরিত্রাভিনেতাদের একজন তিনি। বিনোদন মাধ্যমে কাজ করছেন অনেকদিন থেকেই। তিনি বিশেষভাবে নজরে আসেন ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে। সিনেমার ‘পারকেস’ চরিত্রে অভিনয় করেন রিজভী। 

এই আলাপে সে প্রসঙ্গে মজার তথ্য দিলেন তিনি। বললেন, ‘‘আমার অভিনয় করার কথা ছিল ‘উরকেস’ চরিত্রে। ওই চরিত্রের জন্য আমার অডিশন হয় এবং দুই মাস রিহার্সেলও করি। কিন্তু পরে ‘পারকেস’ চরিত্রে অভিনয় করি। নির্মাতা (মেজবাউর রহমান সুমন) যখন জানলেন যে আমার চরিত্র পরিবর্তন হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অভিনয়ই করব না। কিন্তু পরে নানা কারণে কাজটা করি এবং মনে হয় ভালোই হয়েছে।’’

রিজভীর ফিল্মোগ্রাফি বেশ ঈর্ষণীয়। তার ঝুলিতে আছে ধ্রুব হাসান পরিচালিত ‘ফাতিমা’, শঙ্খ দাশগুপ্তের ‘প্রিয় মালতী’, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান পরিচালিত চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ফেউ’, নুহাশ হুমায়ূন পরিচালিত সিরিজ ‘২ষ’। ‘ফেউ’ সিরিজে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে রিজভী রিজু‘ফেউ’ সিরিজে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে রিজভী রিজু আর্ট ঘরানার কাজে কি পারিশ্রমিক বেশি! জানতে চাইলে রিজভী জানান, ‘না।’ 

পাল্টা আগ্রহ, তাহলে এতো আর্ট ঘরানায় কাজ করার কারণ কী? রিজভী বলেন, ‘আমি সব কাজই করতে চাই। বাণিজ্যিক ধারার কাজ আসছে কিন্তু করতে পারছি না।’ ব্যাখ্যাও দিলেন অভিনেতা। বললেন, ‘সুপারস্টারের একটা সিনেমায় আমার কাজ করার কথা ছিল। ডেট দিলাম, তারা পাসপোর্টও নিল। কিন্তু সেই ডেট আসতে আসতে আমার অন্য কাজের ডেট শুরু হয়ে গেল। সিনেমাটা করতে পারলাম না। আরেকটা বাণিজ্যিক সিনেমার প্রস্তাব এসেছিল, অ্যাকশন ঘরানার, পারিশ্রমিক মিলল না বলে রাজি হইনি। আরেকটা সিনেমার ব্যাপারে প্রাথমিক কথা হয়েছে। চূড়ান্ত না হলে বলতে পারছি না।’

রিজভী রিজু গানও করেন। না, গান শেখেননি কিন্তু করেন। লোক গান, লালনের গানই বেশি করেন। আড্ডা–পরিচিত মহলে গানের শুরু, পরে স্টেজেও গান করেছেন। তবে এখন এসব কমে গেছে। একটা তথ্য দিলে তার শিল্পী পরিচয়টা ভালো করে বোঝা যাবে, অনেক শ্রোতাই তাকে চিনে যেতে পারেন। ২০১৩ সালে আদনান আল রাজীব পরিচালিত ‘অ্যাট এইটটিন’ টেলিফিল্মে ‘ও বন্ধু লাল গোলাপি’ ভার্সনটি রিজভীর গাওয়া! এছাড়া ‘লুলু পাগল’ নামে একটি গান রয়েছে, যেখানে রিজভী মিউজিক ভিডিওর প্রধান অভিনয়শিল্পী ও কণ্ঠশিল্পীও। ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় মেহজাবীনের সঙ্গে রিজভী রিজু‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় মেহজাবীনের সঙ্গে রিজভী রিজু গাতক জীবন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এই দুটি গানের আইডিয়া মূলত সংগীত পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধির। সে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, তাই আমাকে এই কাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এগুলো আসলে আমাদের তরুণ বয়সের কাজ। অনেক কিছু না ভেবেই কাজগুলো করে ফেলেছি।’

ঢাকায় জন্ম রিজভীর, শৈশব কেটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে। লেখাপড়ার কিছু অংশ শেষ করে আবার ঢাকায়। শিক্ষা অর্জন পাশাপাশি কাজের সন্ধান করতে করতে কেটে যায় অনেকটা সময়। কাজ করেছেন সাউন্ড স্টুডিও, প্রোডাকশন হাউসে। এখনও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রিজভী রিজু। বললেন, ‘অভিনয়ে আরও নিয়মিত হতে পারলে চাকরি আর করব না।’

কিন্তু প্রধান চরিত্রের শিল্পী না হতে পারলে শুধু অভিনয় করে কি টিকে থাকা যাবে? সময় নিলেন না রিজভী। চটজলদি আত্মবিশ্বাসী জবাব, ‘আমি পারব। তাছাড়া এখন চরিত্রাভিনেতা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে। তাই আমার মনে হয় টিকে থাকা সম্ভব, আর আমি সেই সম্ভাবনার দিকেই আগাতে চাই।’চরিত্রের বাইরে রিজভী রিজুচরিত্রের বাইরে রিজভী রিজু রাজধানীতে যারা মেট্রো রেলে যাতায়াত করেন, তাদের অনেকেই রিজভী রিজু অভিনীত বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন। ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন তিনি। অর্থাৎ অনেক রকম কাজ করেই এগিয়ে যেতে হচ্ছে রিজভীকে। তার ভাষায়, ‘আপাতত এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এতে কষ্ট বা শ্রম আছে, তবু ঠোঁটের কোনে হাসিটা ধরে রাখতে চাই।’ 

জানান দিলেন, মেট্রোর মতো দ্রুতগামী নয় বরং মেট্রো সেবার মতো মুগ্ধতা ছড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান রিজভী রিজু।