নওগাঁয় জাতীয় নির্বাচনে ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পথে
নওগাঁ: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বিস্তারিত:
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত রক্ষার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৮ হাজার ৮৮ ভোট, জাতীয় পার্টির আকবর আলী লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির আব্দুল হক শাহ্ হাতপাখা প্রতীকে ৯ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত রক্ষা করতে পারেননি। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে ২ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০টি।
নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনই জামানত হারাতে বসেছেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীকে ১৭ হাজার ১২৯ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত টেলিভিশন প্রতীকে মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার মই প্রতীকে ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীকে মাত্র ৮২৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান কাস্তে প্রতীকে ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইললামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন হাতপাখা প্রতীকে ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম কলস প্রতীকে ৭১২ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম কাস্তে প্রতীকে ৭১১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা হাতি প্রতীকে ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি।
জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। যারা প্রদত্ত ভোটের আট শতাংশ ভোট পাননি, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, জেলার এই ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে ৭৫.২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















