শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জেরা করার কথা থাকলেও, তার অসুস্থতার কারণে সেই প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে, তার জেরার দিন আগামী ৯ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা নয় নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে পরীমনির উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)। তিনি জানান, “পরীমনির শরীর ভালো নেই। সম্প্রতি তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন হয়েছে। এই কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি।” আইনজীবী আরও জানান যে তারা আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য, পরীমনি ২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকার সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাসির উদ্দিন এবং অন্য দুই আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে, ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার নয় নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
২০২২ সালের ১৮ মে, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আদেশ দেন। এরপর, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর এই মামলায় পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তবে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই তারিখে পরীমনি আদালতে জবানবন্দি দিতে ইতস্ততবোধ প্রকাশ করলে, তার আইনজীবী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য একটি আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সময়ে, ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পরীমনির জবানবন্দি রেকর্ড সম্পন্ন হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে। সেদিন রাতে ঢাকার অদূরে বিরুলিয়া বোট ক্লাবে যান পরীমনি। সেখানে তিনি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন। এই ঘটনার জেরে তিনি ১৪ জুন নাসির ও অমি সহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা দায়ের করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























