ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করলেন শফিকুল আলম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’সহ শীর্ষস্থানীয় অনেক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন বা পরিকল্পিত অপতথ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর হয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। শুধু ছোট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নয়, ভারতের বড় বড় টেলিভিশন চ্যানেল এবং নামী পত্রিকাগুলোও এই অপপ্রচারের মিছিলে শামিল হয়েছে। বিশেষ করে ‘অফ ইন্ডিয়া’র মতো ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত ঘৃণা ছড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, সরকার একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা নিশ্চিত করতে চায়। অথচ বাইরের দেশগুলোতে এমন একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় কিংবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতীয় মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে এই ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছে যাতে বর্তমান সরকার ও সম্ভাব্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলা যায়।

সংলাপে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণমাধ্যমগুলো জনগণের কথা না বলে বিশেষ কোনো পক্ষকে প্রমোট করেছে, যা অপতথ্যেরই একটি রূপ। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উত্থানে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশের দায় রয়েছে। এই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে তথ্য বিকৃতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বিভ্রান্তি ছড়ানো আরও সহজ হয়েছে, যা রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। অন্যদিকে, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান দেশে একটি সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম নীতিমালার অভাবের কথা তুলে ধরেন। সংলাপে বক্তারা একমত হন যে, তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা যেন অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সজাগ থাকতে হবে। মিডিয়া লিটারেসি বা সংবাদ সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই কাঠামোগত সংকট মোকাবিলা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করলেন শফিকুল আলম

আপডেট সময় : ০১:৪৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’সহ শীর্ষস্থানীয় অনেক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন বা পরিকল্পিত অপতথ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর হয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। শুধু ছোট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নয়, ভারতের বড় বড় টেলিভিশন চ্যানেল এবং নামী পত্রিকাগুলোও এই অপপ্রচারের মিছিলে শামিল হয়েছে। বিশেষ করে ‘অফ ইন্ডিয়া’র মতো ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত ঘৃণা ছড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, সরকার একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা নিশ্চিত করতে চায়। অথচ বাইরের দেশগুলোতে এমন একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় কিংবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতীয় মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে এই ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছে যাতে বর্তমান সরকার ও সম্ভাব্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলা যায়।

সংলাপে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণমাধ্যমগুলো জনগণের কথা না বলে বিশেষ কোনো পক্ষকে প্রমোট করেছে, যা অপতথ্যেরই একটি রূপ। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উত্থানে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশের দায় রয়েছে। এই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে তথ্য বিকৃতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বিভ্রান্তি ছড়ানো আরও সহজ হয়েছে, যা রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। অন্যদিকে, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান দেশে একটি সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম নীতিমালার অভাবের কথা তুলে ধরেন। সংলাপে বক্তারা একমত হন যে, তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা যেন অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সজাগ থাকতে হবে। মিডিয়া লিটারেসি বা সংবাদ সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই কাঠামোগত সংকট মোকাবিলা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।