ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ: সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি করে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ সংক্রান্ত দুটি পৃথক অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’। পরিষদ মনে করে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন আইনের খসড়া প্রকাশ করা কেবল অনভিপ্রেতই নয়, বরং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটি সুপারিশও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে, যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, তখন জনমতামতের জন্য মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তড়িঘড়ি করার প্রক্রিয়াটি অংশীজনদের উপেক্ষা করার শামিল এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্পাদক পরিষদের মূল আপত্তির জায়গাগুলো:

সম্পাদক পরিষদ তাদের বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রথমত, প্রস্তাবিত খসড়া দুটির কাঠামো ও বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনা করে সংগঠনটি মনে করছে, এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা সুরক্ষার চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বেশি রাখা হয়েছে। যা মুক্ত গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক, সম্পাদক বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থবহ আলোচনা বা অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে এমন সংবেদনশীল আইনের খসড়া প্রণয়ন গণতান্ত্রিক চর্চার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

নির্বাচিত সংসদের ওপর সিদ্ধান্তের ভার দেওয়ার আহ্বান:

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের সুদূরপ্রসারী আইন প্রণয়নের নৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেবল একটি নির্বাচিত সংসদের থাকা উচিত। অংশীজনদের সঙ্গে স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ খোঁজা যেখানে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল, সেখানে মাত্র তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জনমতামত আহ্বান করাকে একটি লোক দেখানো প্রক্রিয়া বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সম্পাদক পরিষদ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ গঠন হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা সমীচীন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কোনো আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। উল্লেখ্য, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন সংক্রান্ত এই দুটি বিতর্কিত খসড়া অধ্যাদেশ সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সহ আরও বেশ কিছু নাগরিক সংগঠনও এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে ‘বিদায়ী পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ: সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি করে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ সংক্রান্ত দুটি পৃথক অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’। পরিষদ মনে করে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন আইনের খসড়া প্রকাশ করা কেবল অনভিপ্রেতই নয়, বরং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটি সুপারিশও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে, যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, তখন জনমতামতের জন্য মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তড়িঘড়ি করার প্রক্রিয়াটি অংশীজনদের উপেক্ষা করার শামিল এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্পাদক পরিষদের মূল আপত্তির জায়গাগুলো:

সম্পাদক পরিষদ তাদের বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রথমত, প্রস্তাবিত খসড়া দুটির কাঠামো ও বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনা করে সংগঠনটি মনে করছে, এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা সুরক্ষার চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বেশি রাখা হয়েছে। যা মুক্ত গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক, সম্পাদক বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থবহ আলোচনা বা অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে এমন সংবেদনশীল আইনের খসড়া প্রণয়ন গণতান্ত্রিক চর্চার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

নির্বাচিত সংসদের ওপর সিদ্ধান্তের ভার দেওয়ার আহ্বান:

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের সুদূরপ্রসারী আইন প্রণয়নের নৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেবল একটি নির্বাচিত সংসদের থাকা উচিত। অংশীজনদের সঙ্গে স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ খোঁজা যেখানে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল, সেখানে মাত্র তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জনমতামত আহ্বান করাকে একটি লোক দেখানো প্রক্রিয়া বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সম্পাদক পরিষদ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ গঠন হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা সমীচীন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কোনো আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। উল্লেখ্য, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন সংক্রান্ত এই দুটি বিতর্কিত খসড়া অধ্যাদেশ সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সহ আরও বেশ কিছু নাগরিক সংগঠনও এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে ‘বিদায়ী পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।