টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আয়োজিত এক পথসভায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, তাদের জোট সরকার গঠন করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘হিসাব দাও’ নামক একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল ও সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এখন কোনো কোনো দলের প্রধান ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলছেন। অথচ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদি কর্মীরা ‘না’ ভোট চান, তবে তাদের ‘গুপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করতে হবে। এভাবে গোপনে ‘না’ ভোট চাওয়াও এক ধরনের গোপন তৎপরতা।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তিন দিক থেকে একটি বিশেষ দেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। আমরা সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করলেও তারা আমাদের সঙ্গে ছোট প্রতিবেশী হিসেবে আচরণ করতে চায়। ভারতের এই ‘বড় ভাই’ সুলভ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ১১ দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় এলে যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং সামরিক বাহিনীর অধীনে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ছিল তার একটি বড় ভুল। সেই ভুলের খেসারত হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে একটি দল পুনরায় আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া কৃষকদের ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে অন্য একটি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ২৫ বছরেও তারা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
পথসভায় ঘাটাইল-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, নির্বাচিত হলে বেতন ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। তিনি ঘাটাইলে পাহাড় কাটা রোধ, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ বক্স স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হলে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইবেন না।
জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের স্বপ্ন দেখছেন, সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিরোধ করবে। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা অতীতে ভোট জালিয়াতি করেছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় ঐক্য জোট কাজ করে যাচ্ছে। জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯-এর মতো ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলুসহ শরিক দলগুলোর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























