ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের সীমা সর্বনিম্ন স্তরে নামালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ইতিহাসে শরণার্থী গ্রহণের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক নথিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার শরণার্থী নেওয়া হবে। এটি মার্কিন ও বৈশ্বিক শরণার্থী নীতি ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অংশ।

ট্রাম্প তার নতুন ঘোষণায় উল্লেখ করেন, নিজ দেশে বেআইনি বা অন্যায় বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত বার্ষিক ঘোষণায় ট্রাম্প আরও বলেন, শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত দেশটিতে আফ্রিকানাররা বর্ণভিত্তিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

তবে এপ্রিল মাসের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রস্তাব দেন যে, ব্যাপক অভিবাসনের বিরোধিতা বা জনতুষ্টিবাদী রাজনৈতিক দলের সমর্থনের কারণে বৈষম্যের শিকার হলে ইউরোপীয়দের মধ্য থেকেও নিপীড়িতদের শরণার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। তখন বলা হয়েছিল, মার্কিন স্বার্থের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হলে এই প্রক্রিয়াটি আবার চালু করা হবে। এর কয়েক সপ্তাহ পরই তিনি আফ্রিকানারদের প্রবেশের উদ্যোগ নিলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মাত্র ১৩৮ জন দক্ষিণ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন।

তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী, শরণার্থী কোটা নির্ধারণের আগে কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে কোনো বৈঠকই হয়নি। কংগ্রেস সদস্য জেমি রাসকিন ও সিনেটর ডিক ডারবিনসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, অবৈধ ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন।

নিজেদের কাজের সমর্থনে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ১ অক্টোবর থেকে সরকারি কার্যক্রম স্থগিতে (শাটডাউন) আলোচনা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার আগে কোনো শরণার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্যান্য দেশকেও আশ্রয় নীতিমালা কঠোর করার বৈশ্বিক প্রচারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অভিবাসন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন নথি যাচাই করে রয়টার্স জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের শেষ অর্থবছরে শরণার্থী প্রবেশের সীমা ছিল প্রায় এক লাখ।

‘টেন্ট পার্টনারশিপ ফর রিফিউজি’র’ সিইও গিডিওন মাল্টজ এই প্রসঙ্গে বলেন, শরণার্থীরা মার্কিন শ্রমঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এই কর্মসূচি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত সুফল বয়ে এনেছে। আজ এটিকে ধ্বংস করলে মার্কিন স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের সীমা সর্বনিম্ন স্তরে নামালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ইতিহাসে শরণার্থী গ্রহণের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক নথিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার শরণার্থী নেওয়া হবে। এটি মার্কিন ও বৈশ্বিক শরণার্থী নীতি ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অংশ।

ট্রাম্প তার নতুন ঘোষণায় উল্লেখ করেন, নিজ দেশে বেআইনি বা অন্যায় বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত বার্ষিক ঘোষণায় ট্রাম্প আরও বলেন, শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত দেশটিতে আফ্রিকানাররা বর্ণভিত্তিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

তবে এপ্রিল মাসের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রস্তাব দেন যে, ব্যাপক অভিবাসনের বিরোধিতা বা জনতুষ্টিবাদী রাজনৈতিক দলের সমর্থনের কারণে বৈষম্যের শিকার হলে ইউরোপীয়দের মধ্য থেকেও নিপীড়িতদের শরণার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। তখন বলা হয়েছিল, মার্কিন স্বার্থের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হলে এই প্রক্রিয়াটি আবার চালু করা হবে। এর কয়েক সপ্তাহ পরই তিনি আফ্রিকানারদের প্রবেশের উদ্যোগ নিলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মাত্র ১৩৮ জন দক্ষিণ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন।

তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী, শরণার্থী কোটা নির্ধারণের আগে কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে কোনো বৈঠকই হয়নি। কংগ্রেস সদস্য জেমি রাসকিন ও সিনেটর ডিক ডারবিনসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, অবৈধ ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন।

নিজেদের কাজের সমর্থনে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ১ অক্টোবর থেকে সরকারি কার্যক্রম স্থগিতে (শাটডাউন) আলোচনা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার আগে কোনো শরণার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্যান্য দেশকেও আশ্রয় নীতিমালা কঠোর করার বৈশ্বিক প্রচারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অভিবাসন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন নথি যাচাই করে রয়টার্স জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের শেষ অর্থবছরে শরণার্থী প্রবেশের সীমা ছিল প্রায় এক লাখ।

‘টেন্ট পার্টনারশিপ ফর রিফিউজি’র’ সিইও গিডিওন মাল্টজ এই প্রসঙ্গে বলেন, শরণার্থীরা মার্কিন শ্রমঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এই কর্মসূচি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত সুফল বয়ে এনেছে। আজ এটিকে ধ্বংস করলে মার্কিন স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।