অতীতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে যারা জোরপূর্বক ক্ষমতায় ছিল, তাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এবার যদি কেউ ভোট চুরির দুঃসাহস দেখায়, তবে সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি এলাহাবাদ পৌর এলাকার ছোট আলমপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদী চক্র জনগণের ম্যান্ডেটের তোয়াক্কা করেনি। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের নামে প্রহসন চালিয়েছে। একদিকে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আমরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভোট কারচুপির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পুরোনো কায়দায় এখনো কেউ কেউ ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। মনে রাখবেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তাদের কাছে ভোট চাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং সম্মানের। যারা কর দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের কাছে জনপ্রতিনিধিদের মাথা নত করাটাই স্বাভাবিক। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, টাকার বিনিময়ে নিজেদের মূল্যবান আমানত বা ভোট বিক্রি করবেন না। আপনারা যদি সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন, তবে তারা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। এতে রাষ্ট্রের কর্মচারীরাও জনসেবায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবে। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনআকাঙ্ক্ষার একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।
উঠান বৈঠকে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























