ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে কমিশন প্রতিবেদন: যুগান্তকারী সুপারিশের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অভাব

দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটময় পরিস্থিতি এই বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। সম্প্রতি, ‘জুলাই বিপ্লব’ পরবর্তী সময়ে গঠিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের ৩২২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত সর্ববৃহৎ সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। কমিশনের ১২ জন সদস্য এবং চার শতাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসক, তাদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কমিশন স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে মোট ৩২টি প্রধান সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশেষত, স্বাস্থ্য বাজেটের ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ প্রাথমিক চিকিৎসায় বরাদ্দের প্রস্তাবনাটিকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে, একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সুবিশাল প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গত ৫৪ বছরের স্বাস্থ্য খাতের কোনো সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। এছাড়া, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে ১৯৮২ সালে প্রণীত ‘জাতীয় ওষুধ নীতি’ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সংস্কার প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলোর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে প্রায় ২০০টি রেফারেন্স থাকলেও, বাংলাদেশের ওষুধ নীতি বা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবদানকে সেভাবে স্থান দেওয়া হয়নি।

প্রচুর জনবল, সময় এবং অর্থ ব্যয় করে এই বিশদ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হলেও, এর বিশ্লেষণে কিছু সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যবীমা, স্বাস্থ্যকবচ, ই-প্রেসক্রিপশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই কারণে, বিদ্যমান ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে কতটা গুণগত পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে কমিশন প্রতিবেদন: যুগান্তকারী সুপারিশের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অভাব

আপডেট সময় : ১২:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটময় পরিস্থিতি এই বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। সম্প্রতি, ‘জুলাই বিপ্লব’ পরবর্তী সময়ে গঠিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের ৩২২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত সর্ববৃহৎ সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। কমিশনের ১২ জন সদস্য এবং চার শতাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসক, তাদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কমিশন স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে মোট ৩২টি প্রধান সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশেষত, স্বাস্থ্য বাজেটের ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ প্রাথমিক চিকিৎসায় বরাদ্দের প্রস্তাবনাটিকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে, একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সুবিশাল প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গত ৫৪ বছরের স্বাস্থ্য খাতের কোনো সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। এছাড়া, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে ১৯৮২ সালে প্রণীত ‘জাতীয় ওষুধ নীতি’ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সংস্কার প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলোর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে প্রায় ২০০টি রেফারেন্স থাকলেও, বাংলাদেশের ওষুধ নীতি বা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবদানকে সেভাবে স্থান দেওয়া হয়নি।

প্রচুর জনবল, সময় এবং অর্থ ব্যয় করে এই বিশদ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হলেও, এর বিশ্লেষণে কিছু সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যবীমা, স্বাস্থ্যকবচ, ই-প্রেসক্রিপশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই কারণে, বিদ্যমান ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে কতটা গুণগত পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।