উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নির্দিষ্ট মতাদর্শ দীর্ঘকাল ধরে লালিত হয়ে আসছে, যা বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের মূল সংগঠন আরএসএসের ‘অখণ্ড ভারত’ বা ‘বৃহত্তর ভারত’-এর ধারণাটি বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দুত্ববাদী এই দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো ভারতকে একটি একক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি এক ধরনের তাত্ত্বিক হুমকি স্বরূপ।
ঐতিহাসিকভাবে ১৯২৩ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের ‘হিন্দুত্ব’ তত্ত্ব থেকে এই চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং পরবর্তী নেতা এমএস গোলওয়ালকার এই ধারণাকে আরও উগ্র রূপ দান করেন। তাদের তত্ত্বে অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বর্তমানে আরএসএস ও বিজেপির বিভিন্ন কার্যালয়ে প্রদর্শিত ‘অখণ্ড ভারত’-এর মানচিত্রে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়, যা কেবল তাত্ত্বিক কল্পনা নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী চিন্তাধারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 

























