সমাজের গভীরে প্রোথিত আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে অর্থনীতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়। একসময় গ্রামগঞ্জের হাটবাজারের প্রবেশপথে মাইকে ধর্মীয় বক্তাদের আহ্বান শোনা যেত, যেখানে পার্থিব জীবনের পাশাপাশি পরকালের সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হতো। মসজিদ বা মাদ্রাসার তহবিল সংগ্রহের সময়েও এমন অনুনয়-বিনয় ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আহ্বানগুলোর রূপ পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু পরকালের আশ্বাসের বিনিময়ে কিছু প্রাপ্তির ধারণা আজও প্রাসঙ্গিক।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, পরকালের ‘টিকিট’ বিক্রির এমন এক অভিনব ধারণার প্রথম প্রচলন করেন বহলুল নামের এক ব্যক্তি, যিনি খলিফা হারুন অর রশিদের শাসনামলে বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন। কেউ তাকে পাগল আবার কেউ বা দরবেশ বলে অভিহিত করতেন।
একদিন, বহলুল শহরের জনবহুল বাজারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে শুরু করেন, “বেহেশতের টিকিট বিক্রি হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে!” তার এই ঘোষণায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ হেসে উঠলেও, তিনি তার বার্তা প্রচারে অবিচল ছিলেন। হাতে থাকা কাগজের টুকরোতে তিনি ‘বেহেশতের টিকিট’ লিখে বিক্রি করছিলেন, যার মূল্য ছিল সামান্য কিছু দিনার। এই খবর খলিফা হারুন অর রশিদের দরবার পর্যন্ত পৌঁছায় এবং বিশেষ করে সম্রাটের বেগম এই ঘটনায় কৌতূহলী হয়ে ওঠেন।
বেগম গোপনে তার এক খাদেমকে পাঠান বহলুলের কাছে। খাদেম বহলুলকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনার বেহেশতের টিকিটের মূল্য কত?” বহলুল উত্তর দেন, “আজকের দিনে এর মূল্য একশ দিনার।” খাদেম ফিরে এসে বেগমকে সব জানান। বেগম কিছুক্ষণ চিন্তা করে খাদেমকে সেই টিকিটটি কিনে আনতে নির্দেশ দেন। খাদেম বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, “হুজুরা, লোকটি তো একজন পাগল!” বেগম শান্তভাবে বলেন, “আমি যা বলেছি, তুমি তাই করো!” খাদেম নির্দেশ অনুযায়ী টিকিটটি কিনে আনেন। বহলুল সেই টিকিটে লিখে দেন – “এই টিকিটের মালিক আল্লাহর পথে দান করেছেন – তিনি আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারেন।”
সেই রাতে খলিফা হারুন অর রশীদ এই ঘটনা জানতে পেরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি তার পরিষদবর্গকে ডেকে বলেন, “দেখো, আমার বেগম এক পাগলের কাছ থেকে বেহেশতের টিকিট কিনেছেন!” এই ঘটনা পরকালের আশ্বাসের বিনিময়ে পার্থিব প্রাপ্তির এক প্রাচীন ও বিচিত্র চিত্র তুলে ধরে, যা আজও বিভিন্ন আঙ্গিকে সমাজে বিদ্যমান।
রিপোর্টারের নাম 

























