ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পোস্টাল ব্যালট আসা শুরু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসতে শুরু করেছে। এসব ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং গণনার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়ে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট পেপারে (OCV) আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক বাদে অন্য সকল দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক (মোট ১১৮টি) এবং ‘না’ ভোটের অপশন থাকবে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন, তাদের ব্যালটে নিজ নিজ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উল্লেখ থাকবে।

ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের প্রস্তুতি: রোববার ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো ‘লক’ করেছেন। ঢাকা-১৩ আসনে ৫,৬১৭ জন এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৭,৪০৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, প্রতিটি আসনে প্রতি ৪০০ ব্যালটের জন্য একটি করে বিশেষ বাক্স রাখা হচ্ছে। ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মোট ২৪টি ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভোট গ্রহণ ও স্ক্যানিং প্রক্রিয়া: ডাক বিভাগ থেকে পাওয়া পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো গ্রহণের পর সেটির ওপর থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করা হবে। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপটপে তথ্য জমা হবে এবং ডুপ্লিকেট ব্যালট শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যদি কোনো ভোটার খাম পাওয়ার পর মোবাইল অ্যাপে লগইন করে কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট ফেরত পাঠান, তবে সেই ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও গণনা:

  • ব্যালট গ্রহণের শেষ সময়: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টা। এই সময়ের পরে আসা কোনো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
  • গণনা পদ্ধতি: বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যালট বাক্সগুলো বুঝে নেবেন এবং নির্ধারিত গণনা কক্ষে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তা গণনা করা হবে।

নিবন্ধনের পরিসংখ্যান: ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে দেশের ভেতরে (সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি) ৭ লাখ ৬১ হাজার এবং প্রবাসে ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসীদের ব্যালট আসা শুরু হয়েছে এবং দেশের ভেতরের ব্যালটগুলো দ্রুতই পাঠানো শুরু হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট কক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

পোস্টাল ব্যালট আসা শুরু

আপডেট সময় : ০১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসতে শুরু করেছে। এসব ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং গণনার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়ে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট পেপারে (OCV) আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক বাদে অন্য সকল দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক (মোট ১১৮টি) এবং ‘না’ ভোটের অপশন থাকবে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন, তাদের ব্যালটে নিজ নিজ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উল্লেখ থাকবে।

ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের প্রস্তুতি: রোববার ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো ‘লক’ করেছেন। ঢাকা-১৩ আসনে ৫,৬১৭ জন এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৭,৪০৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, প্রতিটি আসনে প্রতি ৪০০ ব্যালটের জন্য একটি করে বিশেষ বাক্স রাখা হচ্ছে। ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মোট ২৪টি ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভোট গ্রহণ ও স্ক্যানিং প্রক্রিয়া: ডাক বিভাগ থেকে পাওয়া পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো গ্রহণের পর সেটির ওপর থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করা হবে। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপটপে তথ্য জমা হবে এবং ডুপ্লিকেট ব্যালট শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যদি কোনো ভোটার খাম পাওয়ার পর মোবাইল অ্যাপে লগইন করে কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট ফেরত পাঠান, তবে সেই ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও গণনা:

  • ব্যালট গ্রহণের শেষ সময়: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টা। এই সময়ের পরে আসা কোনো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
  • গণনা পদ্ধতি: বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যালট বাক্সগুলো বুঝে নেবেন এবং নির্ধারিত গণনা কক্ষে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তা গণনা করা হবে।

নিবন্ধনের পরিসংখ্যান: ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে দেশের ভেতরে (সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি) ৭ লাখ ৬১ হাজার এবং প্রবাসে ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসীদের ব্যালট আসা শুরু হয়েছে এবং দেশের ভেতরের ব্যালটগুলো দ্রুতই পাঠানো শুরু হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট কক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হবে।