ইউরোপের উন্নত জীবনের মোহে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার মরণযাত্রা থামছে না, যা প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশির প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, এই রুটে প্রাণ হারানো অভিবাসীদের ১২ শতাংশই বাংলাদেশি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ১ হাজার ৩৫৮ জন বাংলাদেশি জীবন বাজি রেখে ইতালি প্রবেশ করেছেন।
দালালচক্রের প্রলোভনে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়িয়ে অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সাগরে সলিল সমাধিস্থ হচ্ছেন অথবা লিবিয়ার ভয়াবহ ‘গেম ঘরে’ মাফিয়াদের হাতে বন্দি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বন্দিদের পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে, যা অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
লিবিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বৈধভাবে কর্মী পাঠানো এবং দুবাই-মালয়েশিয়া হয়ে অবৈধভাবে লিবিয়া প্রবেশের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত দুই বছরে প্রায় ৬০০ জন বৈধভাবে লিবিয়া গেলেও তাদের বড় অংশই শেষ পর্যন্ত মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত ভাগ্য বদলানোর নেশায় তরুণরা এই আত্মঘাতী পথ বেছে নিচ্ছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, লিবিয়াফেরত কর্মীদের ৮৯ শতাংশই কোনো কাজ পাননি, বরং চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয় রোধে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় দালালচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























