সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্মিত স্টিল বেইলি সেতুটি আবারও দেবে গেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে একটি মালবাহী ট্রাক পার হওয়ার সময় সেতুর মাঝখানের দুটি স্টিলের পাটাতন দেবে যায়। এর ফলে বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে রাজধানী অভিমুখী সকল ধরনের যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যানবাহনগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এই বেইলি সেতু গত কয়েক বছরে বহুবার ধসে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকসহ সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়ে চালক ও সহকারীসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনো স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে ১০ টনের বেশি পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চালকদের মধ্যে তা মানার প্রবণতা নেই। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণেই যেকোনো মুহূর্তে আবারও প্রাণহানি সহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় এখানে একটি নতুন স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি। অনুমোদনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনজিচালক সুজন মিয়া বলেন, ছোট গাড়ি নিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করলেও যাত্রী নিয়ে ব্রিজে উঠতে ভয় লাগে।
ঢাকাগামী ট্রাকচালক হাবিবুর বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই দেখছি শুধু জোড়াতালি দিয়ে মেরামত চলছে। একটা বড় ট্রাক উঠলেই সেতু কাঁপে। স্থায়ী পাকা সেতু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ভোগান্তি শেষ হবে না। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে আমরা পাটাতন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি বিকেলের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এই স্থানে স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দাপ্তরিক কাজ ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















