নববর্ষের শুরুতে সম্রাট আকবরের দরবারে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। মৃদুমন্দ বাতাস একসময় প্রবল বেগে বইতে শুরু করে, যা রাজকীয় পরিবেশকে আরও গম্ভীর করে তোলে। মিনারে দাঁড়িয়ে থাকা শিকারির তির যেন সন্দেহের দোলাচলে দুলছে, অবশেষে তা হরিণ শাবকের গায়ে বিঁধবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়। সম্রাট আকবর তির-ধনুক পাশে রেখে তানসেনের গানের সুরে মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন এবং দূর থেকে হরিণ শাবকের বিচরণ অবলোকন করতে থাকেন।
গদিতে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে সম্রাট আকবর হয়তো কোনো ব্যুহ রচনার কল্পনায় মগ্ন ছিলেন। হঠাৎ তিনি অর্থমন্ত্রী টোডরমলকে প্রশ্ন করেন, ‘বাংলা থেকে খাজনা কি বারওয়াক্ত এসেছে রাজা দিওয়ান-ই-আশরাফ?’ টোডরমল কিছুটা দেরি করে উত্তর দেন যে, খাজনা এখনো কোষাগারে জমা হয়নি, তবে আশা করছেন শিগগিরই হবে। সম্রাট তাঁর উদ্বেগের কথা জানান যে, গত কয়েক বছর ধরেই এমন অবস্থা চলছে এবং বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠছে কিনা, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
সম্রাটের এই উদ্বেগের জবাবে সৈয়দ মীর ফতহুল্লাহ শিরাজী তাঁর ক্ষুদ্র জ্ঞানের বয়ান দেন যে, রায়তদের ফসল এখনো ঘরে ওঠেনি, তাই খাজনা আদায়ে দেরি হচ্ছে। সম্রাট রাজ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান এবং হরিণ শিকার করতে গিয়ে সেদিন তিনি যে সমস্যা এবং তাঁর ভাবনা সভাসদদের কাছে বলেছিলেন, তা উল্লেখ করেন। এ সময় দশম রত্ন ফতহুউল্লাহ শিরাজী নীরবে শুনে যান এবং তাঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ঐতিহাসিক সমাধানের সূত্র খুঁজে পায়।
বেশ কিছুদিন পর, সম্রাট তাঁর দরবারে বসেছিলেন। একে একে সব সভাসদ সালাম জানিয়ে বিদায় নিলেও ফতহুউল্লাহ শিরাজী এবং দেওয়ান টোডরমল বসে রইলেন। সম্রাট মুচকি হেসে তাঁদের কাছে বসতে ইশারা করেন। টোডরমল ফতহুউল্লাহ শিরাজীকে ইঙ্গিত করলে তিনি বলেন, ‘জাহাঁপনা, সমস্যার মূল সুতো গিয়ে ঠেকেছে সূর্য আর চন্দ্রে। সমস্যাটি তানসেনের সুরের মতোই বোধগম্য কিন্তু আব্দুল রহিম খান-ই-খানানের দোহার মতোই দুর্বোধ্য।’ শিরাজীর কথা শুনে আকবর হাসেন এবং রসিকতা করে বলেন, ‘বীরবল থাকলে মনে শঙ্কা লাগত বৈকি, ওর চাকরি বুঝি এবার গেল!’ টোডরমল হেসে ফেললেও শিরাজী শান্ত রইলেন, কারণ তিনি জানেন সমাধানের দুর্বোধ্যতা ভেদ করা গেলেও বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ।
রিপোর্টারের নাম 























