ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনে বলেছেন, রাশিয়া বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা পরবর্তী সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান গতিশীল অংশীদারত্ব এবং ইতিবাচক সম্পৃক্ততার ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে চায়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই গভীর বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত খোজিনে তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের এই দিনে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন নবজাত সার্বভৌম বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করেছিল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ভিত্তি থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আজ বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অটুট আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, “আজকের রাশিয়া ও বাংলাদেশ কেবল কূটনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং জ্বালানি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিজ্ঞানসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে একে অপরের নির্ভরযোগ্য বন্ধু।”
অর্থনৈতিক ও কৃষি খাতে সহযোগিতা: বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। রাষ্ট্রদূত জানান, কৃষি পণ্য, মানসম্পন্ন খাদ্য এবং সারের শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়া বাংলাদেশকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। এই বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে গত সপ্তাহেই রাশিয়া বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার উপহার দিয়েছে। তিনি বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় শক্তির উৎস: বার্তায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত খোজিনে নিশ্চিত করেন যে, রাশিয়ান ঠিকাদাররা সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও মান বজায় রেখে অত্যাধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকল্পটি চালু হলে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে নতুন উচ্চতা: সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার প্রবল আগ্রহের কারণে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০-তে উন্নীত করা হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান। উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ বছর আগেও এই বৃত্তির সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৫টি। ঢাকায় অবস্থিত ‘রাশিয়ান হাউস’ বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে রুশ ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত খোজিনে তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সকল প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের এই রাজনৈতিক আলোচনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
রিপোর্টারের নাম 

























