আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল করে সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে বিশ্ব ক্রিকেটে বিভক্তি ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংস্থাটি মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ঐক্য বিনষ্ট করে বিভেদ তৈরি করতে পারে।
ডব্লিউসিএ-এর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এক বিবৃতিতে বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়াটা ক্রিকেটের শীর্ষ আন্তর্জাতিক আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় জাতির অনুপস্থিতি। এটি খেলাধুলা, বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং বিভাজন বা বর্জন নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। মোফাট খেলাটির নেতৃত্বস্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিভিন্ন লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ রাখেন। তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলোই এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্ম দিচ্ছে, যা বিশ্বাস ও ঐক্যকে দুর্বল করে খেলাটির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মোফাটের এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ না থাকায় পাকিস্তানও যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে টুর্নামেন্ট তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। ইউটিউব চ্যানেল ‘কট বিহাইন্ড’-এ লতিফ মন্তব্য করেন, “পাকিস্তান যদি না যায়, তবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। এটি আর বিশ্বকাপ থাকবে না। কল্পনা করুন যদি উগান্ডা পাকিস্তানের স্থলাভিষিক্ত হয়, আহমেদাবাদে ভরা গ্যালারির সামনে ভারত বনাম উগান্ডা ম্যাচ হচ্ছে।”
এর আগে, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে স্থানান্তরের দাবি জানায়। বিসিবি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে আইসিসির সঙ্গে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনা ও চিঠি চালাচালি করে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি এবং নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। শেষ পর্যন্ত আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।
আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেননা, একই নিরাপত্তা ইস্যুতে গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সে সময় তারা দুবাইয়ে একই হোটেলে থেকে একই ভেন্যুতে নিজেদের সবগুলো ম্যাচ খেলে শিরোপাও ঘরে তোলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন উল্টো নিয়ম, এই প্রশ্ন তুলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভি আইসিসিকে ‘দ্বিমুখী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখন দেখার পালা, টম মোফাটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আইসিসি এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারে, নাকি ভারতীয় আধিপত্যের বেড়াজালে বন্দি থাকে।
রিপোর্টারের নাম 























