ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম থাকায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে তাদের দল অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন।
আগামী ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। এবারের আসরে ইরান ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের বর্তমান চরম বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানি ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ দেশটির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে ফেডারেশন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি ও ক্রীড়া কর্মকর্তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাদের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে ইরানের বিশ্বকাপে খেলার ভবিষ্যৎ।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে ইরানের ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আগে থেকেই ছিল বেশ জটিল। সাম্প্রতিক হামলার পর সেই সংকট এখন চরমে। মেহদি তাজ স্বীকার করেছেন যে, নিজ দেশে হামলার পর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক থাকা কঠিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মাতৃভূমিতে আঘাত হেনেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষ থেকে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। এই হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বিনা জবাবে পার পাবে না।”
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন রাজনৈতিক সমীকরণই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের জন্য। দেশটির সরকার ও উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের ভাগ্য।
রিপোর্টারের নাম 























