ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট: ‘১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির নামে ‘পুনঃভর্তি ফি’ আদায় বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড গত রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, এই আবেদন জমা দেয়। তাদের অভিযোগ, এই ফি আদায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে চলা এক ‘ভয়াবহ ও নীরব শোষণ’, যার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ‘শিক্ষা বাণিজ্য’ হচ্ছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আলী আসগর ইমন সাংবাদিকদের জানান, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা যখন বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে যায়, তখন নতুন করে ভর্তি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা আজ একটি ‘পণ্যে’ পরিণত হয়েছে এবং অভিভাবকরা ‘জিম্মি গ্রাহকে’ রূপান্তর হয়েছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানের পড়াশোনার পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

আবেদনকারী পক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, সরকারিভাবে এই ধরনের ফি আদায় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। গত নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজে (মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর) শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা’ অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল সেশন চার্জ নেওয়া যাবে, তবে পুনঃভর্তির ফি নেওয়া যাবে না। এর অর্থ হলো, পুনঃভর্তির নামে আলাদা ফি আদায় যে অবৈধ, তা সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায় থেকেই স্বীকৃত ও ঘোষিত।

তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সারাদেশে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই এই প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করছে। এমনকি শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরও এই অবৈধ ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড’ জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিটে পুনঃভর্তির নামে যেকোনো ফি আদায়কে অবৈধ ঘোষণা করে তা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ, যারা চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০২৬ শিক্ষাবর্ষ) ইতোমধ্যে এই অবৈধ ফি প্রদান করেছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার আদেশ এবং শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির পূর্ণ ও বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে নির্দেশ দেওয়ার আদেশ চাওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট: ‘১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি

আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির নামে ‘পুনঃভর্তি ফি’ আদায় বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড গত রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, এই আবেদন জমা দেয়। তাদের অভিযোগ, এই ফি আদায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে চলা এক ‘ভয়াবহ ও নীরব শোষণ’, যার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ‘শিক্ষা বাণিজ্য’ হচ্ছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আলী আসগর ইমন সাংবাদিকদের জানান, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা যখন বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে যায়, তখন নতুন করে ভর্তি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা আজ একটি ‘পণ্যে’ পরিণত হয়েছে এবং অভিভাবকরা ‘জিম্মি গ্রাহকে’ রূপান্তর হয়েছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানের পড়াশোনার পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

আবেদনকারী পক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, সরকারিভাবে এই ধরনের ফি আদায় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। গত নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজে (মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর) শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা’ অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল সেশন চার্জ নেওয়া যাবে, তবে পুনঃভর্তির ফি নেওয়া যাবে না। এর অর্থ হলো, পুনঃভর্তির নামে আলাদা ফি আদায় যে অবৈধ, তা সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায় থেকেই স্বীকৃত ও ঘোষিত।

তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সারাদেশে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই এই প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করছে। এমনকি শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরও এই অবৈধ ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড’ জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিটে পুনঃভর্তির নামে যেকোনো ফি আদায়কে অবৈধ ঘোষণা করে তা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ, যারা চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০২৬ শিক্ষাবর্ষ) ইতোমধ্যে এই অবৈধ ফি প্রদান করেছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার আদেশ এবং শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির পূর্ণ ও বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে নির্দেশ দেওয়ার আদেশ চাওয়া হয়েছে।