২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় চলতি এপ্রিল মাসেই প্রকাশিত হতে পারে। উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দেওয়া এই রায়ের অনুলিপি লেখার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের ১৩ মে হাইকোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত শাহাদত উল্লাহ জুয়েলের সাজা বহাল রাখা হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আরও ৯ আসামির দণ্ড কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তথা আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারছে না। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরও দ্রুত রায় প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিন আসামি অন্য মামলায় বা স্বাভাবিক মৃত্যুতে মারা যাওয়ায় তাদের আপিল অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই যুগ আগের সেই নৃশংস ঘটনায় ১০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৪ সালে বিচারিক আদালত মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি ও একাধিক বেঞ্চ পরিবর্তনের পর অবশেষে গত বছর এর রায় আসে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিস্ফোরণের ঘটনার ২৫ বছর পার হতে চললেও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা পৃথক মামলাটির বিচারকাজ এখনো নিম্ন আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে আটকে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























