মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এই মামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেও বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছর এবং প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পলাতক থাকা সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলের প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজন আসামিকে ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, এই মামলাটিতে মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। পলাতক ২৪ জনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ অনেকেই রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল জুলাই মাসের ১৬ তারিখে, যখন রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকা থেকে বেরোবির দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অগ্রসর হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তখন অসংখ্য সশস্ত্র পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশের পাঁচ সদস্য আবু সাঈদের মাথায় আঘাত করে, যার ফলে তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন আবু সাঈদকে গুলি করে বলে জানা যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























