ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, জব্দ ২২ কোটি টাকার সম্পদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে, তার ও পরিবারের আরও তিন সদস্যসহ মোট আটজনের নামে থাকা ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক আদালতের কাছে আবেদন করেছিল যে, অভিযুক্তরা বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র ও সম্পদ উদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত দুদকের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, তার স্ত্রী আফরোজা জামান, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এবং ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন।

এছাড়া, যেসব স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মালিকানায় রয়েছেন আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান, ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালক হাফিজুর রহমান এবং শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গুলশানের জোয়ার সাহারায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে জমি এবং আফতাব নগরে ছয় কাঠা জমি। এছাড়াও গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জে তাদের নামে বিভিন্ন পরিমাণ জমি রয়েছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ করা না হলে বিচার শেষে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না, যা রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, অভিযুক্তরা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে আছাদুজ্জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাবেক এই কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে আরও ১৬৬ শতক জমি রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, জব্দ ২২ কোটি টাকার সম্পদ

আপডেট সময় : ১০:২১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে, তার ও পরিবারের আরও তিন সদস্যসহ মোট আটজনের নামে থাকা ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক আদালতের কাছে আবেদন করেছিল যে, অভিযুক্তরা বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র ও সম্পদ উদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত দুদকের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, তার স্ত্রী আফরোজা জামান, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এবং ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন।

এছাড়া, যেসব স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মালিকানায় রয়েছেন আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান, ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালক হাফিজুর রহমান এবং শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গুলশানের জোয়ার সাহারায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে জমি এবং আফতাব নগরে ছয় কাঠা জমি। এছাড়াও গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জে তাদের নামে বিভিন্ন পরিমাণ জমি রয়েছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ করা না হলে বিচার শেষে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না, যা রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, অভিযুক্তরা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে আছাদুজ্জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাবেক এই কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে আরও ১৬৬ শতক জমি রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।