ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই মেগা ইভেন্টে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর, তাদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আইসিসির ভূমিকা এবং তাদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিশেষ করে পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ও অস্ট্রেলিয়ার জেসন গিলেস্পির মতো কিংবদন্তিরা আইসিসির এমন আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হবে স্কটল্যান্ড। সংস্থাটি জানায়, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিসিবি সেখানে দল পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল, আর বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডের নামটিও ছিল আলোচনায়।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের সাবেক তারকারা। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি আইসিসির এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিজের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ ও আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমি সংস্থাটির এই অসঙ্গতি দেখে অত্যন্ত হতাশ। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি তারা সহজেই মেনে নিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের আবেদন তারা গুরুত্ব দেয়নি।”
আফ্রিদি আরও উল্লেখ করেন যে, সদস্য দেশগুলোর প্রতি সমান আচরণ এবং ন্যায্যতা বজায় রাখাই বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অগণিত দর্শক ও ক্রিকেটাররা আইসিসির কাছ থেকে সম্মান ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে, কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ নয়।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ও পাকিস্তানের সাবেক লাল বলের কোচ জেসন গিলেস্পিও আইসিসির এই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, ভারত কেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বাইরে খেলার সুযোগ পেল আর বাংলাদেশ কেন একই সুবিধা পেল না। গিলেস্পি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ভারত যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন তাদের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করা হলো। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নিয়ম? আইসিসির উচিত এর একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এই অনুপস্থিতির ফলে বিশ্বকাপের সূচিতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় এখন খেলবে স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালি। আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই আসর। বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং আইসিসির অনমনীয় মনোভাব ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
রিপোর্টারের নাম 























