বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তার দলের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, জনগণের রায় পেলে আধিপত্যবাদবিরোধী সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ইনসাফপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
শনিবার রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই জনসভাটি রাত ৯টা পর্যন্ত চলে, যেখানে স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়, যেখানে কোনো নাগরিক চাঁদাবাজির শিকার হবে না এবং দুর্নীতির কারণে কেউ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র হবে জনগণের প্রকৃত সেবক, শাসক নয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে আগামীর সরকারের মূল কাজ।
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যার মাধ্যমে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের মাটিতে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং তারা কোনো দখলদার বা দুর্নীতিবাজ শক্তিকে আর গ্রহণ করবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে সৎ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তাই ইনসাফ কায়েমের এই লড়াইয়ে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ মো. আবদুল্লাহ ও এস এম সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 

























