ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধে জোর মির্জা আব্বাসের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাঁদাবাজির যে সংস্কৃতি লালন করা হয়েছে এবং মাদক ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তা মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ।

শনিবার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একসময় ৫ আগস্টের পর দুই মাস তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই সময়ে চাঁদাবাজ দমনে একটি বিশেষ দল গঠন, হটলাইন খোলা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছিলেন। এতে তার নির্বাচনী এলাকা শান্ত ছিল। তবে, তার দায়িত্ব প্রত্যাহারের পর পুলিশি তৎপরতা কমে গেলে চাঁদাবাজি পুনরায় শুরু হয় এবং প্রায় সকল দলই এতে জড়িয়ে পড়ে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যাদের নিয়ে তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, তারাও এই অপকর্মে জড়িত।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে একটি গোষ্ঠী ও একটি দেশ তৎপর। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

মির্জা আব্বাস তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় মনোনিবেশ এবং বেশি করে বই পড়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাদকের মতোই একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা সন্তানদের বিপথগামী করছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা আব্বাস বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে তিনিসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। তবে, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২৪-এর আন্দোলনকে এক করা যাবে না। তার মতে, ৭১-এর যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতার জন্য, আর ২৪-এর আন্দোলন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন। তিনি এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপি অনেক নেতাকর্মীকে হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও পাম্পে অকটেনের হাহাকার: কারণ কী?

মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধে জোর মির্জা আব্বাসের

আপডেট সময় : ০৭:৫১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাঁদাবাজির যে সংস্কৃতি লালন করা হয়েছে এবং মাদক ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তা মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ।

শনিবার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একসময় ৫ আগস্টের পর দুই মাস তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই সময়ে চাঁদাবাজ দমনে একটি বিশেষ দল গঠন, হটলাইন খোলা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছিলেন। এতে তার নির্বাচনী এলাকা শান্ত ছিল। তবে, তার দায়িত্ব প্রত্যাহারের পর পুলিশি তৎপরতা কমে গেলে চাঁদাবাজি পুনরায় শুরু হয় এবং প্রায় সকল দলই এতে জড়িয়ে পড়ে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যাদের নিয়ে তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, তারাও এই অপকর্মে জড়িত।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে একটি গোষ্ঠী ও একটি দেশ তৎপর। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

মির্জা আব্বাস তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় মনোনিবেশ এবং বেশি করে বই পড়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাদকের মতোই একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা সন্তানদের বিপথগামী করছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা আব্বাস বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে তিনিসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। তবে, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২৪-এর আন্দোলনকে এক করা যাবে না। তার মতে, ৭১-এর যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতার জন্য, আর ২৪-এর আন্দোলন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন। তিনি এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপি অনেক নেতাকর্মীকে হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।