লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। শুক্রবার গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর ছেলে শাকিল বেপারী (২৩) ও সোহাগ বেপারী (১৯) এবং মোস্তফা পাটওয়ারীর ছেলে মোক্তার পাটওয়ারী (২০)।
নিহত আশরাফুল ইসলাম একই উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্য নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে আশরাফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আশরাফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে রায়পুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। শাহিন ধারণা করেন, আশরাফুলই এই তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ক্ষোভ থেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি শাহিন তার সহযোগীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়।
র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















