ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনীন: তারেক রহমান

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার মতে, এই দুটি ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে অন্যান্য অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধানের পথে আসবে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও সার্বজনীন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

গত শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান।

আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। দুর্নীতিকে দেশের অগ্রগতির বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি নানা রূপ ও স্তরে বিদ্যমান। যেকোনো মূল্যে এর মোকাবিলা করতে হবে। যদি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিকে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, তাহলে বাকি সমস্যাগুলোর অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। এটি আমার পরিকল্পনা।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ১৩৮টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু রাখলেও এগুলোর বাস্তবায়ন ত্রুটিপূর্ণ। কোথাও একজন তিনটি সুবিধা পাচ্ছে, আবার কোথাও কেউ একটিও পাচ্ছে না, যা সম্পদ নষ্ট করছে। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও সার্বজনীন করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ডকে সার্বজনীন করতে চাই, যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এর আওতায় আসে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন কৃষকের স্ত্রী যেমন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রীও পাবেন, তেমনি একজন সরকারি কর্মচারীর স্ত্রীও পাবেন। সবাই যেন একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আসে, এটাই লক্ষ্য।

নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সড়ক নকশা, গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান— সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট বাড়ছে। এ সমস্যার সমাধানে ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধাও থাকবে। তিনি ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং বেশি জায়গা নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল অধিক সুবিধাজনক, কারণ এটি ছোট বগি নিয়ে চলে এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় সংযুক্ত করা সম্ভব।

প্রবাসীদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে তরুণরা অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখার কথাও জানান তিনি।

আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে জনগণের ভাবনা ও প্রস্তাবকে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার লক্ষ্যে বিএনপি ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ১১টি বিষয়ের ওপর এক মিনিটের রিলস বানানোর এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। জনমত (৩০% নম্বর) ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়ন (৭০% নম্বর) ভিত্তিতে ১০ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত এই ১০ জনই তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার সুযোগ পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফাটল: লুটপাট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনীন: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার মতে, এই দুটি ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে অন্যান্য অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধানের পথে আসবে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও সার্বজনীন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

গত শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান।

আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। দুর্নীতিকে দেশের অগ্রগতির বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি নানা রূপ ও স্তরে বিদ্যমান। যেকোনো মূল্যে এর মোকাবিলা করতে হবে। যদি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিকে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, তাহলে বাকি সমস্যাগুলোর অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। এটি আমার পরিকল্পনা।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ১৩৮টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু রাখলেও এগুলোর বাস্তবায়ন ত্রুটিপূর্ণ। কোথাও একজন তিনটি সুবিধা পাচ্ছে, আবার কোথাও কেউ একটিও পাচ্ছে না, যা সম্পদ নষ্ট করছে। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও সার্বজনীন করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ডকে সার্বজনীন করতে চাই, যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এর আওতায় আসে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন কৃষকের স্ত্রী যেমন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রীও পাবেন, তেমনি একজন সরকারি কর্মচারীর স্ত্রীও পাবেন। সবাই যেন একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আসে, এটাই লক্ষ্য।

নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সড়ক নকশা, গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান— সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট বাড়ছে। এ সমস্যার সমাধানে ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধাও থাকবে। তিনি ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং বেশি জায়গা নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল অধিক সুবিধাজনক, কারণ এটি ছোট বগি নিয়ে চলে এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় সংযুক্ত করা সম্ভব।

প্রবাসীদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে তরুণরা অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখার কথাও জানান তিনি।

আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে জনগণের ভাবনা ও প্রস্তাবকে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার লক্ষ্যে বিএনপি ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ১১টি বিষয়ের ওপর এক মিনিটের রিলস বানানোর এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। জনমত (৩০% নম্বর) ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়ন (৭০% নম্বর) ভিত্তিতে ১০ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত এই ১০ জনই তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার সুযোগ পান।