ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এলাকাবাসীর কাছে কাজের সুযোগ চাইলেন ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এলাকাবাসীর কাছে তাদের সেবার জন্য একটি সুযোগ চেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চান এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তাকে নির্বাচিত করলে তিনি এই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।

রাজধানীর ওয়ারী এলাকার ৩৮নং ওয়ার্ডে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি রাজনীতিকে দেশ ও জাতির উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী।

তিনি অভিযোগ করেন যে, ৩৮নং ওয়ার্ডটি নগরীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে তীব্র গ্যাস সংকট এখানকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় গৃহিণীদের রান্না করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা সকালের নাস্তার প্রস্তুতিতেও সমস্যা তৈরি করছে। অনেক পরিবারকে গভীর রাতে উঠে রান্না করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং খাবারের জন্য বাইরে বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

এছাড়াও, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এলাকার রাস্তাঘাট ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, যা হাঁটাচলা ও যান চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়ক মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন তিনি।

পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এলাকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং বিষাক্ত বাতাসে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য হিসেবে এই সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, এলাকায় মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং যত্রতত্র গণপরিবহন পার্কিংয়ের কারণে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যানজট বাড়ছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তিনি নির্বাচিত হলে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে গণপরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবেন, যাতে জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তাগুলো উন্মুক্ত থাকে।

যানজট নিরসনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ঢাকার জন্য মনোরেল বা পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ রেলের মতো প্রকল্পগুলো আরও যুক্তিসঙ্গত হতে পারত, যদিও তা ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা দাবি তুলবেন।

এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে তারা একসঙ্গে ছিলেন, জেল খেটেছেন এবং রাজপথে ঝুঁকি নিয়েছেন। আগামী দিনেও তারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলবেন।

তিনি তার বাবার জন্য এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফাটল: লুটপাট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ

এলাকাবাসীর কাছে কাজের সুযোগ চাইলেন ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেন

আপডেট সময় : ০৬:০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এলাকাবাসীর কাছে তাদের সেবার জন্য একটি সুযোগ চেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চান এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তাকে নির্বাচিত করলে তিনি এই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।

রাজধানীর ওয়ারী এলাকার ৩৮নং ওয়ার্ডে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি রাজনীতিকে দেশ ও জাতির উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী।

তিনি অভিযোগ করেন যে, ৩৮নং ওয়ার্ডটি নগরীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে তীব্র গ্যাস সংকট এখানকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় গৃহিণীদের রান্না করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা সকালের নাস্তার প্রস্তুতিতেও সমস্যা তৈরি করছে। অনেক পরিবারকে গভীর রাতে উঠে রান্না করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং খাবারের জন্য বাইরে বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

এছাড়াও, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এলাকার রাস্তাঘাট ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, যা হাঁটাচলা ও যান চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়ক মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন তিনি।

পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এলাকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং বিষাক্ত বাতাসে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য হিসেবে এই সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, এলাকায় মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং যত্রতত্র গণপরিবহন পার্কিংয়ের কারণে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যানজট বাড়ছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তিনি নির্বাচিত হলে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে গণপরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবেন, যাতে জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তাগুলো উন্মুক্ত থাকে।

যানজট নিরসনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ঢাকার জন্য মনোরেল বা পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ রেলের মতো প্রকল্পগুলো আরও যুক্তিসঙ্গত হতে পারত, যদিও তা ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা দাবি তুলবেন।

এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে তারা একসঙ্গে ছিলেন, জেল খেটেছেন এবং রাজপথে ঝুঁকি নিয়েছেন। আগামী দিনেও তারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলবেন।

তিনি তার বাবার জন্য এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।