ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

চিরবিদায় নিলেন সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা জাভেদ: জানাজা শেষে দাফন উত্তরায়

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বরেণ্য এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। প্রথিতযশা এই শিল্পীর প্রয়াণে চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে জাভেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) বাদ আসর এই কিংবদন্তির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

পারিবারিক ও ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ক্যানসারের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই গুণী শিল্পী।

১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে তিনি সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে আসেন এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশে স্থায়ী হয়ে চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা শাবানা।

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য পরিচালক হিসেবেও জাভেদ ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস হলেও চলচ্চিত্র জগতে তিনি ‘জাভেদ’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘নিশান’ সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। নব্বই দশক পর্যন্ত তিনি বড় পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।

জাভেদের প্রয়াণ ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অসামান্য অবদান এবং চলচ্চিত্রের প্রতি নিবেদন তাকে এ দেশের দর্শক ও চলচ্চিত্রকর্মীদের মাঝে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ২৩৮ ইরানি নাবিক

চিরবিদায় নিলেন সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা জাভেদ: জানাজা শেষে দাফন উত্তরায়

আপডেট সময় : ০২:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বরেণ্য এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। প্রথিতযশা এই শিল্পীর প্রয়াণে চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে জাভেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) বাদ আসর এই কিংবদন্তির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

পারিবারিক ও ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ক্যানসারের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই গুণী শিল্পী।

১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে তিনি সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে আসেন এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশে স্থায়ী হয়ে চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা শাবানা।

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য পরিচালক হিসেবেও জাভেদ ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস হলেও চলচ্চিত্র জগতে তিনি ‘জাভেদ’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘নিশান’ সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। নব্বই দশক পর্যন্ত তিনি বড় পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।

জাভেদের প্রয়াণ ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অসামান্য অবদান এবং চলচ্চিত্রের প্রতি নিবেদন তাকে এ দেশের দর্শক ও চলচ্চিত্রকর্মীদের মাঝে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।