ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন: দায়িত্ব নিতে অপরাগতা জানিয়ে খিজির হায়াতের অব্যাহতি প্রার্থনা

১৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই বোর্ড গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত এই বোর্ডে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, পরিচালক খিজির হায়াত খান ও তাসমিয়া আফরিন মৌকে সদস্য হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। তবে নতুন তালিকায় নাম থাকলেও ব্যক্তিগত ও নৈতিক কারণ দেখিয়ে বোর্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে এই অব্যাহতিপত্র জমা দেন খিজির হায়াত খান। নির্মাতা জানান, পুনরায় বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তার কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি।

অব্যাহতি পত্রে খিজির হায়াত খান উল্লেখ করেন, যে কাঠামো ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি ইতিপূর্বে পদত্যাগ করেছিলেন, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদ্যমান অবস্থায় পুনরায় একই দায়িত্ব গ্রহণ করা তার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে অসঙ্গত, তেমনি রাষ্ট্রীয় পদের মর্যাদার ক্ষেত্রেও তা সম্মানজনক হবে না বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, পুনরায় বোর্ডে স্থান পাওয়া অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চান। সামাজিক দায়বোধের জায়গা থেকে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে দীর্ঘদিনের সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত করে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন করা হয়। সে সময়ও নওশাবা, ইকবাল, খিজির হায়াত ও তাসমিয়া বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আইন অনুযায়ী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব পদাধিকার বলে এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আর সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন সদস্য-সচিব হিসেবে। এছাড়া বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের প্রতিনিধিরা।

বোর্ডে আরও প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও প্রদর্শক সমিতির সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মূলত চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই বোর্ড কাজ করে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ২৩৮ ইরানি নাবিক

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন: দায়িত্ব নিতে অপরাগতা জানিয়ে খিজির হায়াতের অব্যাহতি প্রার্থনা

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

১৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই বোর্ড গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত এই বোর্ডে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, পরিচালক খিজির হায়াত খান ও তাসমিয়া আফরিন মৌকে সদস্য হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। তবে নতুন তালিকায় নাম থাকলেও ব্যক্তিগত ও নৈতিক কারণ দেখিয়ে বোর্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে এই অব্যাহতিপত্র জমা দেন খিজির হায়াত খান। নির্মাতা জানান, পুনরায় বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তার কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি।

অব্যাহতি পত্রে খিজির হায়াত খান উল্লেখ করেন, যে কাঠামো ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি ইতিপূর্বে পদত্যাগ করেছিলেন, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদ্যমান অবস্থায় পুনরায় একই দায়িত্ব গ্রহণ করা তার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে অসঙ্গত, তেমনি রাষ্ট্রীয় পদের মর্যাদার ক্ষেত্রেও তা সম্মানজনক হবে না বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, পুনরায় বোর্ডে স্থান পাওয়া অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চান। সামাজিক দায়বোধের জায়গা থেকে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে দীর্ঘদিনের সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত করে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন করা হয়। সে সময়ও নওশাবা, ইকবাল, খিজির হায়াত ও তাসমিয়া বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আইন অনুযায়ী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব পদাধিকার বলে এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আর সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন সদস্য-সচিব হিসেবে। এছাড়া বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের প্রতিনিধিরা।

বোর্ডে আরও প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও প্রদর্শক সমিতির সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মূলত চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই বোর্ড কাজ করে থাকে।