ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: বড় সংকটে দেশের অভিবাসন খাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অভিবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ভিসা বন্ড আরোপের মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বুধবার বাংলাদেশিদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন যদি মনে করে যে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সেদেশের সরকারি কল্যাণ ভাতা কিংবা সামাজিক পরিষেবার (যেমন: ফুডস্ট্যাম্প, আবাসন বা চিকিৎসা সহায়তা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তবে তাদের ভিসা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং মার্কিন রাজনীতিকদের একটি অংশ এই গণহারে ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রখ্যাত অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একটি কার্যকর কর্মকৌশল তৈরির কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে নয়, বরং যেসব দেশ থেকে অভিবাসনের চাপ বেশি এবং যারা সেদেশের সামাজিক পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি নিয়েছে। সরকার এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের পথ খুঁজছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: বড় সংকটে দেশের অভিবাসন খাত

আপডেট সময় : ১০:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

অভিবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ভিসা বন্ড আরোপের মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বুধবার বাংলাদেশিদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন যদি মনে করে যে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সেদেশের সরকারি কল্যাণ ভাতা কিংবা সামাজিক পরিষেবার (যেমন: ফুডস্ট্যাম্প, আবাসন বা চিকিৎসা সহায়তা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তবে তাদের ভিসা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং মার্কিন রাজনীতিকদের একটি অংশ এই গণহারে ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রখ্যাত অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একটি কার্যকর কর্মকৌশল তৈরির কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে নয়, বরং যেসব দেশ থেকে অভিবাসনের চাপ বেশি এবং যারা সেদেশের সামাজিক পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি নিয়েছে। সরকার এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের পথ খুঁজছে।