জাতিসংঘের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। অন্তর্বর্তী সরকার এই সময়সীমা পরিবর্তনের কোনো আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হাতে সময় আছে ১১ মাসেরও কম। তবে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীলতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা এই উত্তরণ প্রক্রিয়া অন্তত তিন থেকে ছয় বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ বা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা যেমন—উৎপাদনশীলতার অভাব, দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপ এলডিসি উত্তরণের পর আরও ঘনীভূত হতে পারে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, উত্তরণ সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে না থাকলেও পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে উত্তরণের পর ইউরোপ, কানাডা ও জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা এবং ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব আইনের ছাড় হারাবে বাংলাদেশ। এই আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধার আওতায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে ধীরগতি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে বিদেশের মিশনগুলোকে নতুন বাজার খোঁজার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং চলতি মাস শেষে সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতিবেদন তলব করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। লুৎফে সিদ্দিকীর মতে, চীন, জাপান ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলেও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশই হতে যাচ্ছে প্রথম দেশ যারা তিনটি সূচকেই যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এলডিসি থেকে বের হচ্ছে, যা জাতীয়ভাবে গর্বের হলেও অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণের এক কঠিন পরীক্ষা।
রিপোর্টারের নাম 

























