আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসী আয়ে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। নির্বাচনের আমেজ এবং ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি ঘিরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৭০৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও রমজান মাসের প্রাক্কালে প্রবাসীরা সাধারণত পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হন, যার প্রতিফলন বর্তমানের এই চাঙ্গাভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে দেশে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যা ছিল ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রায় সমান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ডলার দিয়ে শুরু হয়ে প্রতি মাসেই তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং ডিসেম্বরে এসে তা ৩০০ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। হুন্ডি ও অবৈধ পথে অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ রিজার্ভ পরিস্থিতিকেও শক্তিশালী করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১৫৩ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পরও গত ৮ জানুয়ারি দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফ-এর বিপিএম ৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসীদের আস্থার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও সুসংহত হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























