ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের জন্য ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধন: ইতিহাস গড়লেন প্রবাসীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য এবার নজিরবিহীন সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই প্রবাসী ভোটার, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর ফলে এই বিশাল সংখ্যক ভোটার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরেছেন।

ইসির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যাদের অধিকাংশই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও কারাবন্দী। অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন। জেলা হিসেবে নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা (১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন), আর সংসদীয় আসন হিসেবে ফেনী-৩ আসন থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৯৩ জন ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বান্দরবান ও বাগেরহাট-৩ আসনে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নিবন্ধনকারী ভোটারদের দেওয়া ঠিকানায় ইতিমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটাররা আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রতিটি খামে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের জন্য এবং অন্যটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না, কেবল প্রতীক থাকবে। ভোটাররা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা দেখে নিয়ে পছন্দের প্রতীকে সিল দেবেন। এরপর ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে জমা দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের দিন ভোট গণনার সময় এই পোস্টাল ব্যালটগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কোনো ব্যালট পেপার যদি নির্বাচনের দিনের পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গণনায় ধরা হবে না। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী ও নির্বাচনের মাঠে ব্যস্ত থাকা কর্মকর্তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের জন্য ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধন: ইতিহাস গড়লেন প্রবাসীরা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য এবার নজিরবিহীন সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই প্রবাসী ভোটার, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর ফলে এই বিশাল সংখ্যক ভোটার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরেছেন।

ইসির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যাদের অধিকাংশই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও কারাবন্দী। অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন। জেলা হিসেবে নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা (১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন), আর সংসদীয় আসন হিসেবে ফেনী-৩ আসন থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৯৩ জন ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বান্দরবান ও বাগেরহাট-৩ আসনে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নিবন্ধনকারী ভোটারদের দেওয়া ঠিকানায় ইতিমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটাররা আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রতিটি খামে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের জন্য এবং অন্যটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না, কেবল প্রতীক থাকবে। ভোটাররা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা দেখে নিয়ে পছন্দের প্রতীকে সিল দেবেন। এরপর ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে জমা দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের দিন ভোট গণনার সময় এই পোস্টাল ব্যালটগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কোনো ব্যালট পেপার যদি নির্বাচনের দিনের পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গণনায় ধরা হবে না। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী ও নির্বাচনের মাঠে ব্যস্ত থাকা কর্মকর্তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।