বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ বা সেন্সরশিপ না থাকলেও ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার পক্ষ থেকে এক ধরনের অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা ও ভীতি বিরাজ করছে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার: বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ।
তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এই মব বা জনতাকে বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে প্রশ্রয় দিয়েছে, যার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। কামাল আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে দেশের যেখানেই সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত বা শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তার সব দায়দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরই বর্তায়।
বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সুসাংবাদিকতা চর্চা এবং একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন না হওয়ার পেছনের অন্তরায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কামাল আহমেদের মতে, বর্তমানে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ‘মবের ভয়’। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, যে মিডিয়া ৫ আগস্টের আগে এক ধরনের সুরে কথা বলত, তারা হুট করে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলা শুরু করেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনো যেমন পেশাগতভাবে স্বাধীন হয়ে উঠতে পারেনি, তেমনি তাদের মধ্যে স্বাধীন হওয়ার প্রকৃত সদিচ্ছারও চরম ঘাটতি রয়েছে।
আলোচনায় নারী সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ এবং ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে নারী সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়েনি, বরং অঞ্চলভিত্তিক নারী সাংবাদিকদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, গণমাধ্যমের ওপর কোনো গোষ্ঠী বা মবের খবরদারি বন্ধ না হলে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ আরও অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও আইনজীবী উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















