সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ডোমেইন বন্ধ করে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর তিন কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET)-এর উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিটিসিএল-এর মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পী, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET) কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট— www.uset.ac.bd এবং www.uset.edu.bd— পরিচালনা করে আসছে। গত বছর এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিটিসিএল-কে এক পত্রে অনুরোধ জানিয়েছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কোনোভাবেই কাউকে প্রদান করা না হয়।
পরবর্তীতে, গত বছরের নভেম্বর মাসে বিটিসিএল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠিতে জানানো হয় যে, ডোমেইন বিষয়ে কিছু আপত্তি এসেছে। অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিলেও বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করে ফেরত দেয়। তাদের অজুহাত ছিল, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী ২৭ নভেম্বরের মধ্যেই টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তদের নিরপেক্ষতার অভাব এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ দেখে, তাদের দুর্ব্যবহারমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে এবং ওয়েবসাইট ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে।
গত ১৫ ডিসেম্বর, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মামলার বাদী তাজুল ইসলাম অভিযুক্ত জয়ীতা সেন রিম্পীর সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় রিম্পী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তাজুল ইসলামকে গালিগালাজ করেন, কটু কথা বলেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় তাকে আর কোনোদিন না দেখার মর্মে হুমকি দেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন। তিনি হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীদের আবেদন গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দেন।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা এবং দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে তাজুল ইসলাম গত ১৮ ডিসেম্বর তার আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযুক্তদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর পরবর্তীতে, গত ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার বাদী তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, বুধবার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তিনি আদালতের আদেশের বিষয়ে অবগত হয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























